EID

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এখনো রাজধানীর মার্কেটগুলোতে পোশাক বিক্রি জমে ওঠেনি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার ঈদ কেন্দ্রিক পোশাক বিক্রিতে ভাটা দেখা দিয়েছে। বেচা-বিক্রি একেবারেই কম। অন্যান্য সময় যে পরিমাণ বিক্রি হতো গত ১০ দিনে তার থেকেও কম বিক্রি হয়েছে।

শুক্রবার নিউমার্কেট, টুইন টাওয়ার, রাজধানী সুপার মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, তালতলা মার্কেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ব্যবসায়ীদের কথার সত্যতা পাওয়া গেছে। কিছু কিছু মার্কেটে হাতেগোনা কিছু ক্রেতা-দর্শনার্থীর দেখা মিললেও অনেক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মীদের অলস সময় পার করতে দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের নতুন পোশাকের বিক্রি তুলনামূলক কম হয়। তবে এবার অন্যবারের তুলনায় অনেক কম। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের কারণে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বিক্রি একেবারেই হয়নি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ হলেও ক্রেতার সংকট এখনো রয়েছে।

নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী খায়রুল বলেন, মুসলমানদের সব থেকে বড় উৎসব ঈদ। এ উৎসব উদযাপনের বড় অংশজুড়েই থাকে নতুন পোশাক। তবে রোজার ঈদের তুলনায় কোরবানির ঈদের নতুন পোশাকের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে। তারপরও ঈদ কেন্দ্রিক একটি বিক্রি তো হয়। সে আসায় দোকানে অনেক নতুন পোশাক এনেছি। কিন্তু বিক্রি নেই। আশা করছি আগামী সপ্তাহে মোটামুটি ভালো বিক্রি হবে।
এবার ঈদে বাজারে নতুন কি পোশাক এসেছে জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ী বলেন, নতুন তেমন কোনো পোশাক আসেনি। রোজার ঈদেই যেসব পোশাক বিক্রি হয়েছে এখনো সেগুলোই বিক্রি হচ্ছে। তবে রঙ এবং ডিজাইনের মধ্যে ভিন্নতা আছে। থ্রি-পিস, ফোর-পিস, টু-পিস, লেহাঙ্গা, গ্রাউন সব ধরনেরই পাশাক আমাদের কাছে আছে।

এর মধ্যে ৬০০-৩০০০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে থ্রি-পিস, ফোর-পিস আছে ১০০০-২৫০০ টাকা দামের, লেহাঙ্গা আছে ১১০০-৩৫০০ টাকা দামের। আর গ্রাউন পাওয়া যাবে ১৫০০-৬০০০ হাজার টাকার মধ্যে।

নিউমার্কেটে ছেলেদের পোশাক বিক্রেতা মিনহাজ বলেন, ঈদ কেন্দ্রিক কোনো বিক্রি নেই। বিক্রি হবে কি করে ক্রেতাই তো আসছে না। সাধারণ সময়ে যে বিক্রি হয় এখন সেই বিক্রিও নেই। সাধারণত শুক্রবার মার্কেটে ভিড় থাকে। মার্কেটের দিকে তাকিয়ে দেখেন কি অবস্থা? ক্রেতা তো দূরের কথা দর্শনার্থীও নেই।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে জিন্স ও গ্যাবাডিং প্যান্ট এবং টি শার্ট আছে। ক্রেতারা প্যান্ট ৬০০-২০০০ টাকার মধ্যে পাবেন। টি শার্ট আছে ২০০ থেকে ১৫০০ টাকা দামের।

শান্তিনগরে অবস্থিত টুইন টাওয়ার মার্কেটের ভ্যালেন্টাইন প্রতিষ্ঠানের শামিম হোসেন জয় বলেন, কোরবানির ঈদের সাধারণত নতুন পোশাক খুব একটা আসে না। গত রোজার ঈদের মধুবালা খুব ভালো বিক্রি হয়েছে। আমরা আশা করছি এবারও মধুবালা বিক্রি ভালো হবে। তবে ঈদের বিক্রি শুরু হয়নি। আগামী সপ্তাহে কিছু বিক্রি হবে বলে আশা করছি।
পোশাকের দামের বিষয়ে তিনি বলেন, রোজার ঈদে যে দামে পোশাক বিক্রি হয়েছে এখনো সেই দামই রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দাম একটু কম রাখা হচ্ছে। তবে কোনো পোশাকের দাম বাড়েনি। আমরা মধুবালা পোশাক বিক্রি করছি ২৫০০-৬০০০ টাকায়। মধুবালার পাশাপাশি আছে অফসোল্ডার। ভারতীয় এই পোশাকটি পাওয়া যাবে ১৫০০-৫৫০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া বিভিন্ন দামের ভারতীয় পোশাক আছে।

তালতলা মার্কেটের ইসমাইল হোসেন বলেন, আমরা মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস বিক্রি করি। এসব থ্রি-পিসের দাম ৫০০-৩০০০ টাকা পর্যন্ত। এ মার্কেটে সাধারণত স্বল্প আয়ের মানুষ বেশি আসে। তাদের কথা চিন্তা করেই পণ্য আনা হয়।

এ ব্যবসায়ী বলেন, রোজার ঈদে বিক্রি বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু কোরবানি ঈদ কেন্দ্রিক বিক্রি একেবারেই নেই। কোরবানি এ ঈদে সব সময় বিক্রি কম হয়। তবে এবার মন্দা একটু বেশিই। ক্রেতা-দর্শনার্থী না থাকায় অধিকাংশ সময় অলস কাটাতে হচ্ছে।

রাজধানী সুপার মার্কেটের মো. জুয়েল বলেন, রোজার ঈদের বাচ্চাদের যে গেঞ্জি সেট ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন সেই গেঞ্জির সেট ৩০০ টাকায় বিক্রি করছি। শুধু গেঞ্জির সেট নয় সব ধরনের পোশাকের দাম এখন রোজার ঈদের তুলনায় বেশ কম। এরপরও বিক্রি নেই।