বর্ষায় নতুন পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে খাল-বিল, নদ-নদীতে দেখা মেলে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছের আনাগোনা। আর এসব মাছ ধরতে প্রয়োজন হয় চাই বা দুয়ারীর। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার গোয়ালন্দ বাজারে জমে উঠেছে এসব মাছ ধরার যন্ত্রের হাট। প্রতিদিন এ হাটে হাজার হাজার মাছ ধরার চাই খুচরা ও পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেছে, গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বহু পরিবার চাই ও দুয়ারী তৈরির সঙ্গে জড়িত। বছরের বর্ষা মৌসুমের ৬ মাস তারা এ মাছ ধরার যন্ত্র তৈরির কাজ করে থাকেন।

তল্লা ও কালী জিরা বাঁশ দিয়ে এ যন্ত্র তৈরি করা হয়। একটি বাঁশ দিয়ে ৬০ থেকে ৭০টি চাই তৈরি হয়। তবে একজন শ্রমিক একদিনে ৫ থেকে ৬টির বেশি চাই তৈরি করতে পারেন না। প্রতি শনি ও বুধবার হাটে এ মাছ ধরার যন্ত্র বিক্রি হয়। বাজারে একশ চাই সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। এছাড়া এক পিস চাই ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এসব যন্ত্র তৈরির জন্য প্রতিটি বাঁশ কেনেন ৬০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। এ যন্ত্রে ছোট মাছসহ চিংড়ি মাছ বেশি আটকা পড়ে।

চাই তৈরির কারিগররা জানান, তারা তাদের পরিবারের সবাই মিলে বর্ষা মৌসুমের ৬ মাস চাই তৈরির কাজ করেন। বাঁশ কেনা থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ চাই করতে যে কষ্ট আর খরচ হয় সে তুলনায় লাভ বেশি হয় না।

তবে এ শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। দিন দিন খাল-বিল ও নদীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় মাছ শিকারির সংখ্যাও কমেছে, যার কারণে চাইয়ের চাহিদাও কমছে। বর্তমান সব কিছুর দাম বেশি সে তুলনায় তারা চাইয়ের ভালো দাম পাচ্ছেন না। সরকার এ শিল্প বাঁচাতে স্বল্প সুদে ঋণ দিলে তাদের কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে পারতেন।

এদিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মজিনুর রহমান জানান, মে মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত প্রতিটি মাছের পেটেই ডিম থাকে। এই মা মাছ না ধরার জন্য জেলেদের বিভিন্ন প্রকার সচেতননতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। মাছ শিকারে জেলেরা বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র বা জাল ব্যবহার করেন। এগুলো দমনে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মাঝে মধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।