bnp

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। দলীয় মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে জেতাতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ভরসা শক্তিশালী তৃণমূল নেটওয়ার্ক।

সাবেক এই দুই মেয়রের ভোটের লড়াইয়ে এখন উত্তপ্ত পুরো রাজশাহী। বুলবুলকে হারিয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে লিটন রাসিক মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর নগরীর চেহারা পুরোপুরি পাল্টে দেন তিনি। তারপরও ২০১৩ সালের নির্বাচনে বুলবুলের কাছেই হেরেছিলেন লিটন।
তবে মেয়র নির্বাচিত হয়েও বুলবুল প্রায় আড়াই বছর নগর ভবনের বাইরে কাটান। এ বিষয়টিকেই প্রধান ইস্যু করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে নেমেছেন। ‘বুলবুল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন’ এটিই প্রমাণে মরিয়া নেতারা। সুযোগ পেলে তিনিও নগরীর চেহারা বদলে দেবেন এমন প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন তারা।

এদিকে শুরু থেকেই নগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের নেতারা লিটনের পাশে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি লিটন কন্যা অনিকা ফারিহা জামানের নেতৃত্বে বেশ সক্রিয় ছাত্রলীগও।

সবখানেই সাবেক মেয়র বুলবুলের ব্যর্থতা এবং লিটনের সফলতা তুলে ধরছেন নেতাকর্মীরা। নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবারো রাজশাহী বদলে দিতে নৌকায় ভোট চাইছেন তারা।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের জানান দিচ্ছে ভোটের মাঠে বিএনপি নেতাকর্মীর সরব উপস্থিতি। দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু শুরু থেকেই বুলবুলের পাশে। এখন ভোটের মাঠে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

সম্প্রতি নগর ও জেলা বিএনপির কোন্দল মেটান দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এরপর অভিমান ভুলে মাঠে নেমেছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তাফা। ভোটের মাঠে সক্রিয় বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু এবং সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টুও।

প্রচারণায় রয়েছেন জেলা ও নগর বিএনপির বিভিন্ন ইউনিট, যুবদল, ছাত্রদল ও মহিলাদলসহ অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতারা। তারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে লিফলেট-হ্যান্ডবিল বিতরণ এবং ধানের শীষে ভোট চাইছেন। তাদের দেখে শঙ্কিত কর্মী ও সমর্থকরাও মাঠে নামছেন। ফলে পালে হওয়া লেগেছে বিএনপির।

তবে ভোটারদের মধ্যে তেমন প্রতিক্রিয়া নেই। এখনও সতর্ক প্রায় সব ভোটার। যে প্রার্থী দরজায় কড়া নাড়ছেন, তাকেই আশ্বস্ত করছেন। এখনো জমজমাট হয়েনি ভোটের আড্ডা, চায়ের কাপেও ঝড় নেই। কেউ কাউকে মনের কথাটিও বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

জানতে চাইলে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বুলবুল কোনো উন্নয়নই করতে পারেননি। শুধু তা-ই নয়, তিনি (লিটন) যা করে গিয়েছিলেন, তা-ও ধরে রাখতে পারেননি। মেয়রের ব্যর্থতার কারণে রাজশাহীর নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

তবে লিটনের এ বক্তব্য অপপ্রচার দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, তার মেয়াদে পাসকৃত প্রকল্পগুলো লিটন শুধু বাস্তবায়ন করেছেন। সেই উন্নয়নের ধারাবাকিতরায় গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি, হেলদি সিটি ও এডুকেশন সিটিতে রূপান্তরিত হয়েছে রাজশাহী। দলীয় চেয়ারপার্সনের মুক্তি এবং সরকার পতন আন্দোলনে জনগণ ধানের শীষে ভোট দেবে।

মিনু আরও বলেন, আগে থেকে এখন বিএনপি বেশ সুসংহত। দিন যতই যাচ্ছে ততই জয়ের আভাস পাচ্ছেন তারা। আর এতেই অপতৎরতা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। প্রচারণায় বোমা হামলা চালাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে নেতাকর্মীদের বাড়িতে রাতের অন্ধকারে হামলা চালাচ্ছে, গ্রেফতার করছে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নির্বাচনী কেন্দ্র ভাঙচুর করছে। ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ এর জবাব দেবে। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবে বিএনপি।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে ২০৫০ সাল নাগাদ রাজশাহীকে তিনি বিশ্বের অন্যতম সিটিতে পরিণত করবেন। অন্যান্য নাগরিক সেবা আরো জনবান্ধব ও প্রসারিত করবেন। রাজশাহীকে বদলে দেয়ার স্লোগান লিটনের ফাঁদ বলেও উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা।

শুরু থেকেই লিটনের পাশে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন। সর্বশেষ গত বুধবার যোগ দিয়েছেন খুলনার নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার অবদুল খালেক। ভোটের মাঠে লিটনের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন এ দুই আওয়ামী লীগ নেতা।

আওয়ামী লীগ নয়-বিএনপি-ই সহিংসতা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করে কামাল হোসেন বলেন, গত সোমবার থেকে বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালকদার দুলু রাজশাহীতে অবস্থান করছেন। ওই দিন থেকেই নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত হচ্ছে। তিনিই সহিংসতা উস্কে দিচ্ছেন। নগরে নৌকার জোয়ার দেখে আতঙ্কিত বিএনপি অপপ্রচারে নেমেছে।

এদিকে, প্রধান এ দুই প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে একের পর এক অভিযোগ করেই চলেছেন। তবে এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে নিষ্পত্তিও করছে নির্বাচন কমিশন।

প্রায় সব অভিযোগই পাল্টাপাল্টি উল্লেখ করে নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকি করতে জেলা প্রশাসনের ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। যেখানে আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা ঘটছে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এখনো নির্বাচনে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই।