crot

ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় ক্রোয়েশিয়া। রোববার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলবে দেশটি। বিশ্বকাপ ট্রফিটা তুলে ধরার আগেই নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সাফল্য এরই মধ্যে তারা পেয়ে গেছে। ২১তম বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠার আগে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানই ছিল তাদের সর্বোচ্চ অর্জন।

রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার ফাইনালে উঠে আসা যেন এক রূপকথা! তবে কেবল রূপকথাই নয়, দারুণ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণেই আজ এই অবস্থনে পৌঁছেছে দলটি। সেইসব বৈশিষ্ট্যের কারণে এবারের বিশ্বকাপ নিজেদের ঘরে তুলতে পারেন ক্রোয়েটরা-

দলের ভিতর বিস্ময়কর বোঝাপড়া ও উদ্দীপনা

ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্লাতকো দালিচই মূলত এই অবিশ্বাস্য কাণ্ডের মূলে। একটি ফুটবল দল হিসেবে বিশ্বকাপের আবহ মোটেই ছিলো না ক্রোয়েশিয়ার মাঝে। কিন্তু দালিচ আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসেন খেলোয়াড়দের ভেতর। শুধু খেলোয়াড়ি মনোভাব নয়, দালিচ দলটিকে বানিয়ে ফেলেছেন একটি পরিবারের মতো। খেলোয়াড়রাও বারবার সেই কথাই বলছেন। ৫০ দিন ধরে একসাথে থাকা দলটি দেখলেই বোঝা যায় মাঠে তারা একে অন্যের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত। তিনটি ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে জিততে হয়েছে তাদের। কঠিন সময়েও নিজেদের মধ্যকার বোঝাপড়া, ঐক্য ও উদ্দীপনায় এক চিলতে ফাটল ধরেনি।

মানসিক শক্তি ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য

ডেনমার্ক, রাশিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিয়ে এতটা পথ এগিয়ে এসেছে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু তাদের বিপক্ষে জয় সহজ ছিলো না মোটেই। এক কথায় পিছিয়ে পরেই নিজেদের ফিরিয়ে এনেছেন ক্রোয়েটরা। এর মধ্যে দুটি ম্যাচের ফল এসেছে পেনাল্টি শুটআউটে। ক্রোয়েশিয়ানদের কামব্যাকের সেসব ম্যাচে তাদের মানসিক শক্তির চূড়ান্ত রূপ দেখা গেছে। শারীরিক ভাষাতেও তা ফুটে উঠেছে স্পষ্ট।

অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ বারবার বলেছেন, আমরা আমাদের ক্যারেক্টার দেখিয়েছি।

ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালেও ক্রোয়েটদের ব্যক্তিত্বের এই শক্তির দিকটিই বড় অস্ত্র হবে। ইতিহাসে যতগুলো দল শিরোপা জিতেছে তারা তাদের প্রবল মনোবল ও দৃঢ়তার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করেই টুর্নামেন্টের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

অভিজ্ঞতা আর আত্মবিশ্বাস

ক্রোয়েশিয়ার এই সোনালি প্রজন্মের নেতা মদ্রিচ। শুধু রিয়াল মাদ্রিদের এই খেলোয়াড়ই নয়, এই দলে আছে বিশ্বের বড় বড় ক্লাবে খেলা বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়। যাদের দারুণ উপস্থিতিই দলকে নিয়ে এসেছে এতদূর। এই দলে আছে বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান, জুভেন্তাস ও লিভারপুলের মতো বিশ্বের সেরা সব ক্লাবের খেলোয়াড়। ইভান রাকিতিচ, মারিও মান্দজুকিচ, ইভান পেরিসিচ, মাতেও কোভাকিচ ও দেজান লভরেনের অভিজ্ঞ ও দক্ষ ফুটবলার।

দলের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৭ বছর ১০ মাস। গ্রুপপর্বে আর্জেন্টিনাকে হারানো ম্যাচেই দলটির ভয়ঙ্কর চেহারা দেখা যায়। দলটিতে অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস একসূত্রে গাঁথা রয়েছে। এ দলের প্রায় সব খেলোয়াড়ই তাদের ক্লাবে নিয়মিত একাদশের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে তাই খুব জানা আছে ক্রোয়েটদের।