dse-cse

গত সপ্তহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ দুই কার্যদিবসে বড় উত্থান হলেও সপ্তাহের প্রথম তিনদিন দরপতন হয়। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সবকটি মূল্যসূচক কমেছে। তবে বেড়েছে বাজার মূলধনের পরিমাণ। এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন ফিরে পেয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকার উপরে। বাজার মূলধনের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইতে বেড়েছে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণও।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে বৃহস্পতিবার ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ১ হাজার ৬৬১ কোটি টাকার বাজার মূলধন বেড়েছে ডিএসইর। অবশ্য এর আগের সপ্তাহে ৩ হাজার ৪১ কোটি টাকা বাজার মূলধন কমেছিল।
এদিকে বিগত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৪৩ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৮০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমেছিল ৩৬ দশমিক ৩০ পয়েন্ট বা দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ টানা দুই সপ্তাহের পতনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমেছে ৭৯ পয়েন্ট।

অপর দুটি সূচকের মধ্যে গত সপ্তাহে ডিএসই-৩০ কমেছে ৩৩ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমেছিল ২১ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১০ শতাংশ। এ হিসাবে দুই সপ্তাহে ডিএসইর বাছাইকৃত সূচকটি কমেছে ৫৫ পয়েন্ট।
প্রধান সূচক ও বাছাই করা সূচকের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক কমেছে ২ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বা দশমিক ২০ শতাংশ। এ সূচকটি আগের সপ্তাহে বেড়েছিল দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৪৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ১৬৩টির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। অপরদিকে দাম কমেছে ১৬২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টির দাম।

এদিকে সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৭৬৪ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৭০৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার। সে হিসাবে প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৫৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৫৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৩ হাজার ৫৪১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ৪৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। মোট লেনদেন কমার কারণ গত সপ্তাহে এক কার্যদিবস লেনদেন কম হয়েছে। ব্যাংক হলিডের কারণে ব্যাংকের পাশাপাশি শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ ছিল।

গত সপ্তাহে মোট লেনদেনের ৮২ দশমিক ২১ শতাংশই ছিল ‘এ’ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দখলে। এছাড়া বাকি শেয়ারের ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ ছিল ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত, ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্ত এবং দশমিক ৯৩ শতাংশ ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ার।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অংকে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বসুন্ধরা পেপারের শেয়ার। এ সময়ে কোম্পানিটির ২২৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা রতপুর স্টিল রি-রোলিং মিলসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। ৯৫ কোটি ৮০ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন।

লেনদেনে এরপর রয়েছে- মুন্নু সিরামিক, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাইম টেক্সটাইল, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি, ফরচুন সুজ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল এবং লিগাসি ফুটওয়্যার।