narendra-modi-

ভারতের কেন্দ্র শাসকের সঙ্গে রাজ্য শাসকের বিরোধের খবর নতুন নয়। কেন্দ্রে যে দলের শাসন চলে সেই দলের সরকার যদি রাজ্যে ক্ষমতায় না থাকে- তবে নানা ইস্যুতেই কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধ চলে।

তবে এবার সেই বিরোধের সৌজন্যের সীমা অতিক্রম হতে দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এবং কেন্দ্রের শাসক ও বিজেপির মধ্যে এই লড়াইয়ের জোট ততটাই তীব্র হবে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বরাবর প্রধানমন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষ নেতা নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে বলছেন। অন্যদিকে সুযোগ পেলে কৌশলে মমতাকেও রাজনৈতিকভাবে ছাড়ছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।

কিন্ত এবার শুধু মমতা-মোদির মধ্যেই এই বিরোধ থেমে নেই। এই বিরোধ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্য-কেন্দ্রের দুই সরকারের মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের মধ্যেও।

যেমন কেন্দ্র সরকারের নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, আসানসোলের সংসদ সদস্য বাবুল সুপ্রিয়। দু’দিন আগেই রাজ্য সরকারের দেয়া নিরাপত্তাসহ কোনো সুযোগ-সুবিধা না নেয়ার কথা জানিয়েছেন। প্রটোকল অনুসারে, কেন্দ্রের কোনও মন্ত্রী আসলে তাকে নিরাপত্তাসহ সব ধরনের ভিআইপি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হয় রাজ্য গুলোকে। সেই হিসেবে বাবুল সুপ্রিয়ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা, পরিবহন, থাকাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছিল।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ের এই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার কথা শুনে পাল্টা আক্রমণ করেছেন মমতার মন্ত্রী পরিষদের প্রভাবশালী মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তার মতে, এত দিন যে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয় সেটার কি হবে। শুধু তাই নয়, ফিরহাদ হাকিম বলেছেন বিজেপি রাজনৈতিক দলটি আসলে ভয় দেখানো, চমকানোয় ব্যস্ত।

দুই সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ের সঙ্গে বাক-যুদ্ধ চলছে সমান্তরালভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যেও। সম্প্রতি দ’দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সমাবেশ, সভা ও দলীয় বৈঠক করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। আগামী লোকসভা নির্বাচনের রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি আসন বিজেপি পাবে বলে তিনি ঘোষণা দিয়ে যান।
ওই সভার পরই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির সঙ্গে পুরুলিয়ার লাগদা গ্রামের এক পরিবারের সদস্যরা কথা বলেছিলেন। দু’দিন পর সেই পরিবারের সদস্যদের কলকাতায় এনে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ করান তৃণমূল নেতা মদন মিত্র। পরে তিনি অতিম শাহের পশ্চিমবঙ্গ সফর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, আগামীতে অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে পারবেন না। এর আগে তিনি উত্তরবঙ্গে এক পরিবারের সঙ্গে কলাপাতায় বসে দুপুরের খাবার খেয়েছিলেন। এবার সেই কলাপাতা জোটেনি। আগামীতে তিনি ঢুকতেই পারবেন না।

২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচন। নির্বাচনের আগে ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে প্রধান দু’টি রাজনৈতিক মুখ তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়ে হয়েছে। দল দু’টির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যেমন বাক-যুদ্ধ চলছে তেমন দু’টি দলের সরকারের মধ্যেও চলছে একইভাবে তীব্র বিরোধ। যা প্রতিদিনই শিরোনামে আসছে ভারতীয় গণমাধ্যমে।