mesi

ম্যাচের শেষ বাঁশি বেজেছে মিনিট দশেক আগেই। তখনো থামেনি সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামের গর্জন। মেসিরা মাঠে পরস্পরের সঙ্গে আলিঙ্গন করছেন। সবার চোখেই আনন্দঅশ্রু। উত্তাল গ্যালারিতে আর্জেন্টিনা-আর্জেন্টিনা আর মেসি-মেসি স্লোগান। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের গ্যালারি এত সময় ভরা থাকা খুবই কমই দেখা যায়।

আর্জেন্টিনার সমর্থকদের যেন স্টেডিয়াম ছাড়তেই মন চাইছিল না। যেমন মাঠ ছাড়তে মন চাইছিল না মেসিদের। আগের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে খাদের কিনারায় পড়ে যাওয়া আর্জেন্টিনাকে নতুন জীবন দিয়েছে সেন্ট পিটার্সবার্গ। সে স্টেডিয়াম ছেড়ে যাইতে মন চাইবেই বা কেন?
এক সময় মেসিরা ঠিকই মাঠ ছেড়ে ঢুকেছেন সাজঘরে। কিন্তু সমর্থকদের কে পাঠাবেন গ্যালারি থেকে। দুপুর থেকে উৎসব করতে করতে স্টেডিয়ামে এসেছিল আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। তাদের কিছু উচ্ছ্বাস যেন তোলা ছিল। ম্যাচ শেষে তাই অনেক সময় তারা মাতিয়ে রাখলো সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়াম।

তীব্র লড়াই করে এক পয়েন্ট পাওয়ার বন্দোবস্ত প্রায় হয়েই গিয়েছিল নাইজেরিয়ার। মেসির গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাওয়ার পর পেনাল্টিতে সমতা আনেন নাইজেরিয়ার মসেস। এক পয়েন্ট পেলে দ্বিতীয় পর্বে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গী হতো নাইজেরিয়া। কিন্তু ৬ মিনিটের দুঃখ কী করে ভুলবে আফ্রিকার ঈগলসরা। গত বিশ্বকাপে মেসিদের সঙ্গে গলাগলি ধরেই গ্রুপ পর্ব থেকে শেষ ষোলোতে উঠেছিল নাইজেরিয়া। এবার সেই মেসিদের কাছে হেরেই বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল তাদের। চোখের পানি আটকাতে পারেননি নাইজেরিয়ান খেলোয়াড়রা।

ম্যাচের পর দুই দলের খেলোয়াড়রাই কাঁদলেন। আর্জেন্টাইনরা আনন্দে আর নাইজেরিয়ানরা কস্টে। আর্জেন্টিনার আনন্দের কান্নাতো শুরু করেছিলেন তাদের সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক দিয়েগো ম্যারাডোনা। মেসির গোলের পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। নাইজেরিয়া ম্যাচে ফেরার পর রাগে, ক্ষোভে হাত-পা ছুড়েছেন দেশটির ফুটবল ঈশ্বর। তবে ম্যারাডোনাই নয়, শেষ পর্যন্ত বিশ্বের কোটি কোটি মানুষেরও বিশ্বকাপ বেঁচে থাকলো আর্জেন্টিনার জয়ে।

আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার কোচ হোর্হে সাম্পাওলি আর গোলরক্ষক আরমানি বলেছিলেন তারা ভালো খেলেই নাইজেরিয়াকে হারিয়ে উঠে যাবে পরের রাউন্ডে। বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থকের দল দুর্দান্ত ফুটবল খেলেই জিতেছে টিকে থাকার ম্যাচ। আর ভাগ্যদবীও যে সহায় ছিল তাদের। অন্য ম্যাচে আইসল্যান্ড জিতলে যে বৃথা যেতো তাদের সব কিছু।