russia

সেন্ট পিটার্সবার্গে পা রেখেই বোঝা যাচ্ছিলো এখানে রাশিয়ার দ্বিতীয় ম্যাচ ঘিরে কতটা উন্মাদনা হবে। ম্যাচের আগের দিন ইউরোপের অন্যতম সেরা এ পর্যটন শহরের আকাশ ছিল রোদে ভরা। সাধারণত এমন আবহাওয়া এ শহরে কমই থাকে। সেন্ট পিটার্সবার্গের মানুষ যেন মিসরের বিরুদ্ধে ম্যাচের দিনের আনন্দের একটা রিহার্সেল করে নিয়েছিলেন আগের দিন। মঙ্গলবার সেটাই আবার এক সঙ্গে মঞ্চস্থ করলো শহরের প্রধান স্টেডিয়ামে, বিশ্বকাপ ভেন্যুতে।

বৃষ্টি হয়েছে এখানে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডাও পড়েছে। কিন্তু বৃষ্টি-ঠাণ্ডা কিছুই দমাতে পারেনি এ শহরের মানুষদের। লে দলে কোরাশ গেয়ে গেয়ে চলে এসেছেন স্টেডিয়ামে। মাঠে এক লাল সেনানি লড়ছেন মোহামেদ সালাহদের মিসরের বিপক্ষে। আর গ্যালারিতে লাল ঢেউ তুলছে রাশিয়ার সমর্থকরা। ঠিক উদ্বোধনী দিনে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের মতোই।

এ ম্যাচের প্রধান আকর্ষণতো মোহামেদ সালাহ। লিভারপুলের এ তারকা প্রথম ম্যাচ খেলতে পারেননি পুরোপুরি ফিট না থাকায়। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে মঙ্গলবার বিশ্বকাপে অভিষেক হলো সময়ের অন্যতম এ সুপার স্টারের। কিন্তু রাশিয়াদের কাছে এমন দিনে সালাহকে নিয়ে ভাবার সময় কোথায়?

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হলেও সব টিকিটতো আর ক্রয়ের সুযোগ পায়নি রাশিয়ানরা। যে কারণে ম্যাচে তারা গ্যালারি ভরিয়ে দিতে পারেনি। ফাঁকা ছিল অনেক আসন। তবে রাশিয়ানরা ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে উৎসবের কোনো কমতি রাখেনি।
প্রথমার্ধ গোল শূন্য। রাশিয়া ভালই খেলছিল। সমর্থকরা তাই ছিল উজ্জ্বীবিত। যখনই স্বাগতিকদের কোনো খেলোয়াড়ের পায়ে বল তখনই গ্যালারিজুড়ে রাশিয়া রাশিয়া স্লোগান। স্টেডিয়াম থেকে সে গগণবিদারী আওয়াজ যেন ছড়িয়ে পড়ছিল রাশিয়ার প্রতিটি ঘরে। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে স্কোর রাশিয়া-১: মিশর-০। সালাহদের অধিনায়ক আহমেদ ফাথহির আত্মঘাতি গোলে লিড নেয় প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবকে বিধ্বস্ত করা রাশিয়া।

সেখানেই শেষ নয়। ১২ মিনিট পর আবার কেঁপে উঠলো সেন্ট পিটার্সবার্গ। এবার আর পরনির্ভরশীল গোল নয়,দারুণ এক আক্রমণে দ্বিতীয় গোল আায় করে নিলো লাল সেনারা। ডেনিস চেরিশেভের গোলে ব্যবধান ২-০। তখনো থামেনি রুশঝড়। তিন মিনিটের মধ্যে আরেকটি মকা হাওয়া। আর্তেম জিউভা রাশিয়ার তৃতীয় গোল করে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিলেন সালাহরে।

প্রথম ম্যাচে সালাহবিহীন মিশর ১-০ গোলে হেরেছিল উরুগুয়ের কাছে। কোচ হেক্টর রাউল কুপার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, সালাহ খেলবেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে এবং দেশকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু সালাহসহ মিসর হারলো আরও বড় ব্যবধানে। প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিয়ের শঙ্কা তৈরি হলো ২৮ বছর বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে খেলতে এসে।

৭৩ মিনিটে ব্যবধান কমালেন মিসরীয় ফুটবলের রাজা মোহামেদ সালাহ। বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচের গোল অবশ্য মিসরকে রক্ষা করতে পারেনি। মিসরীয় ফুটবলরাজ মাঠ ছেড়েছেন ৩-১ গোলে হেরে মাথা নিচু করে। ভ্লাদিমির লেলিনের উত্তরসূরীরা ঘরে ফিরলেন স্মরণীয় এক ফুটবলযুদ্ধ জয় করে। টানা দুই হার মিসরকে ঠেলে দিলো খারে কিনারায়, দুই জয়ে সবার আগে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা প্রায় নিশ্চিত রাশিয়ার।

শেষ বাঁশি বাঁজলে এমন আওয়াজ উঠলো যেন এক স্টেডিয়ামেই হাজির পুরো রাশিয়া। সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের প্রতিষ্ঠাতা পিটার গ্রেট বেঁচে থাকলে নিশ্চয় রাশিয়ান ফুটবলারদের পিঠ চাপড়িয়ে বলতেন-‘স্বার্থক আমার এ শহর গড়ে তোলা।’