dhos

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, কক্সবাজারে পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবেলায় মানচিত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। ধসের কারণ চিহ্নিত করে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/ভূমিধস বিশেষজ্ঞ/শিক্ষাবিদ/স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য সফুরা বেগমের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ওই কমিটি করণীয় সম্পর্কে রিপোর্ট দিয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সভাপতিত্বে পাহাড়ধসের বিষয় নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করা হচ্ছে।

এছাড়া ধসের বিষয়ে সচেতন করতে গত ২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় র‌্যালি ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়েছে। একই সময়ে ওই পাঁচ জেলার আন্তর্গত ৩৫টি উপজেলায় এবং কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আরও নানাবিধ সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। ২০১৫ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগের তালিকাভুক্ত করা হয়। বর্তমানে এ কারণে মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়া এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে সারাদেশে ১০ লাখ তালগাছ রোপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মায়া বলেন, বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিদ্যুতের তার ও খুঁটিতে বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপন করতে বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আবহাওয়া অধিদফতর দেশের আটটি স্থানে লাইটনিং ডিটেকশন সিস্টেম স্থাপন করেছে। এছাড়া জাতীয় বিল্ডিং কোডে বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির দাফন/ সৎকারের জন্য পরিবারপ্রতি ২৫ হাজার এবং আহত ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া নিহত পরিবারকে ভিজিডি কার্ড দেয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, উপজেলাপর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, পৌরসভা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এমনকি ইউনিয়ন পরিষদেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে নিয়মিত প্রস্তুতি সভা করা হচ্ছে। এছাড়া লিফলেট, ব্যানার, প্রামাণ্যচিত্র ইত্যাদি দিয়ে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া যেকোনো সমস্যায় দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা যেকোনো মোবাইল ফোন থেকে ১০৯০ নম্বরে ফোন করলে এ বিষয়ে তথ্য জানান হচ্ছে।

এছাড়া ভূমিকম্প নিরসনে ইউএনডিপির সহযোগিতায় দেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ন্যাশনাল আর্থকুইক পাবলিক অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীসহ দেশের সব স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসমূহে সতর্কতামূলক চিহ্ন দেয়া হচ্ছে এবং সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেবার জন্য নোটিশ দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভূমিকম্প মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং চার সিটি কর্পোরেশনকে ২২০ কোটি টাকার উদ্ধার যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। চীন থেকে আরও ১০০ কোটি টাকার উদ্ধার সরঞ্জামও আনা হয়েছে।