parliament2

বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসেদ এ বাজেট পাসের মধ্য দিয়ে ২২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৩৩৯ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদে এ অর্থ অনুমোদনের জন্য ২২টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ৪টি দাবির ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়। এগুলো হলো- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। বাকি মঞ্জুরি দাবিগুলো সরাসরি ভোটে প্রদান করা হয়। অবশ্য সব ছাঁটাই প্রস্তাবগুলোই কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এরপর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল ২০১৮ উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে পাস হয়।

গত অর্থবছর শেষে ২২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বাজেটের চেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে যেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করতে পারেনি তাদের হ্রাসকৃত বরাদ্দের জন্য সংসদের অনুমতির কোনো প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ অতিরিক্ত ব্যয় করেছে কেবলমাত্র তাদের বরাদ্দই সংসদের অনুমতির প্রয়োজন হয়।

এরই প্রেক্ষিত্রে সোমবার সংসদে এ সম্পূরক বাজেট পাস হয়। সম্পূরক বাজেটের ওপর মোট ২২টি দাবির বিপরীতে মোট ১৭৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনা হয়। ব্যয় বরাদ্দের বিরোধীতা করে ছাঁটাই প্রস্তাব এনে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, সেলিম উদ্দিন, বেগম রওশন আরা মান্নান, স্বতন্ত্র এমপি রুস্তম আলী ফরাজী, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, নুরুল ইসলাম ওমর ও নূরুল ইসলাম মিলন।
সম্পূরক বাজেটের আওতায় ৬০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিপরীতে ১৫ হাজার ৩৩৯ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে সর্বাধিক ৩ হাজার ৯২৬ কোটি ১১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বিদ্যুৎ বিভাগ খাতে বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। এর পরেই রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় খাত। এ খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তিন হাজার তিনশ ৪৭ কোটি ৪১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। সবচেয়ে কম ৪ কোটি এক লাখ ৮৭ হাজার টাকা বরাদ্দ অনুমোদন পেয়েছে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।

এছাড়া বেশি বরাদ্দ পাওয়া অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে রয়েছে- স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ খাতে এক হাজার আটশ ৬৮ কোটি ৬০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগে এক হাজার একশ ৮২ কোটি ৬৪ লাক ৫০ হাজার টাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে জননিরাপত্তা বিভাগে এক হাজার একশ ৯ কোটি ১১ লাখ এক হাজার টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ছয়শ ৫৯ কোটি ৯৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চারশ ৭১ কোটি ৯৬ লাখ ২১ হাজার টাকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে তিনশ ১৫ কোটি ৭৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ খাতে তিনশ ১১ কোটি ৫১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় খাতে একশ ৯৫ কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় খাতে একশ ৭৩ কোটি ৭৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ খাতে একশ ৬২ কোটি ৬১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

এদিকে সম্পূরক বাজেট পাসের আগে এ নিয়ে আলোচনা করেন সরকারি ও বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র এমপিরা। এর মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের কড়া সমালোচনা করেন বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র এমপিরা। তারা বলেন, যখন বাজেট করা হয় তখন কোনো হিসাব করে করা হয়েছিল। কারা সেসময় বাজেট তৈরি করেছিলেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের বিরোধিতা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৪৭১ কোটি ৯৬ লাখ ২১ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের বিরোধিতা করেন বিরোধী দলীয় এমপিরা। তারা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। যেটা বন্ধ করা যায়নি। অথচ প্রতিবছর এ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত দেয়া হয়ে থাকে। এবার অতিরিক্ত বরাদ্দ মঞ্জুর না করার দাবি জানান তারা।

বিরোধী দলের এমপি ফখরুল ইমাম বলেন, দেশে সুশাসনের ওপর নির্ভর করে দেশ এগিয়ে যায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হলে দেশ এগিয়ে যাবে। জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক বলেন, সরকারের রুপকল্প বাস্তবায়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দক্ষ জনবল প্রয়োজন। আর এ জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ মোটেও অযৌক্তিক নয়। তাই আপত্তি প্রত্যাহার করে সম্পূরক বরাদ্দের প্রস্তাব পাসের আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের কাজ নিয়ে অসন্তোষ
স্থানীয় সরকার বিভাগে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া এক হাজার আটশ ৬৮ কোটি ৬০ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বিরোধীতা করে এমপিরা বলেন, এ খাতে টাকা আরও বেশি বরাদ্দ দেয়া হোক। এ নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু টাকা নিয়ে সুষম কাজ করা হয় না। সঠিকবাবে যেনো সব কাজ করা হয় সে প্রত্যাশা করি। তারা বলেন, ৬৪ জেলার অভিভাবক বলতে গেলে এ মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর অধীনে রয়েছে রাজধানী ঢাকা শহর। কিন্তু জলাবদ্ধতা এখন এ শহরের অন্যতম সমস্যা। আশা করি তিনি এ সরকার বাকি সময় ক্ষমতায় থাকার মধ্যে ঢাকাকে জলযটমুক্ত করবেন।

এমপিদের এসব অসন্তোষের জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, সুপেয় পানি নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ করে চলেছে। এ কারণে পানির লাইনে নানা ধরনের কাজ করা হচ্ছে। আমি প্রত্যাশা করছি, আগামী ২ বছরের মধ্যে ঢাকা শহরে আর কোনো ধরনের জলাবদ্ধতা থাকবে না। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা দিন দিন বাড়ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ নিয়ে আপত্তি
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বিদ্যুৎ বিভাগ খাতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৯২৬ কোটি ১১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্দের বিরোধিতা করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র ৮ এমপি। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ১৬২ কোটি ৬১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

এর বিপরীতে ছাঁটাই প্রস্তাব করেন বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র এমপিরা। তারা বলেন, এখন অনেকইে বিদেশে চিকিৎসা সেবা নিতে যাচ্ছেন। নিশ্চয় আমরা তাদের দেশে ধরে রাখার চেষ্টা করব। এ সময় প্রাইভেট হাসপাতালের অথরিটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা। বলেন, কোন কিছু যাচাই-বাছাই না করেই এসব হাসপাতালের লাইসেন্স দেয়া হয়।