crick

ক্রিকেটে যেকোন ধরনের ফাইনাল ম্যাচ মানেই যেন ভয়ঙ্কর এক ‘দুঃস্বপ্ন’ বাংলাদেশের জন্য। নারী ক্রিকেট দল এখনো পর্যন্ত ফাইনাল ম্যাচ খেলেনি। রোববার নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ফাইনাল ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে তারা। কিন্তু পুরুষ ক্রিকেটে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে নারীদের সামনে কঠিন এক চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে।

নারী এশিয়া কাপের চলতি আসরে দুর্দান্ত খেলেছে বাংলাদেশ নারী দল। প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৬ উইকেটে হারের পর আর পরাজিত দলে থাকেনি বাংলাদেশ। শক্তিশালী পাকিস্তান এবং ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় পাওয়ার পরে, হেসে খেলেই হারিয়েছে তুলনামূলক দুর্বল থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াকে।
রোববারের ফাইনাল ম্যাচে বাংলাদেশ দলের প্রতিপক্ষ ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল। গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচেই হেরেছে ভারত, সেটি হলো সালমা-রোমানাদের বিপক্ষে। এই জয়ের আত্মবিশ্বাস বাংলাদেশের সাথে থাকলেও আগের সব ফাইনাল ভাগ্য দেখলে যে কারোর কপালেই দুশ্চিন্তার ভাজ পড়তে বাধ্য।

বহুজাতিক টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো ২০০৯ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে-শ্রীলংকাকে নিয়ে করা সেই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে লংকানদের বিরুদ্ধে দাপুটে জয়ই পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ফাইনাল ম্যাচে মাত্র ৬ রানে লংকানদের ৫ উইকেট তুলে নিলেও কুমার সাঙ্গাকারা এবং মুত্তিয়া মুরালিধরনের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে সেদিন ২ উইকেটের পরাজয়ে শিরোপা বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।

আর সবশেষ নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলংকাকে দুই ম্যাচে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে নামে বাংলাদেশ। সাব্বির রহমানের ৭৭ রানের ইনিংসে লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। কিন্তু দিনেশ কার্তিকের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে একদম শেষ বলে গিয়ে শিরোপা হাতছাড়া করে টাইগাররা।

এই দুই টুর্নামেন্টের মাঝে ২টি এশিয়া কাপ এবং জিম্বাবুয়ে-শ্রীলংকাকে নিয়ে খেলা আরও একটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। ২০০৯ সালের ফাইনালে ২ উইকেটে পরাজিত হওয়ার পরে ২০১২ সালের এশিয়া কাপে মাত্র ২ রানের জন্য শিরোপা উল্লাস করতে পারেনি বাংলাদেশ। যা কিনা এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিময় ফাইনাল হয়ে আছে।

এরপর ২০১৬ সালের এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাটিংয়ের কাছে হার এবং চলতি বছরের ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে আবারও লংকানদের বিপক্ষে স্বপ্নভঙ্গ। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলতে জিম্বাবুয়ে এবং শ্রীলংকাকে হারায় বাংলাদেশ। কিন্তু ফাইনালের জুজু সামনে আসতেই খেই হারিয়ে ফেলে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। মাত্র ২২২ রান করতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ।

চলতি নারী এশিয়া কাপেও প্রায় একই রকম পারফরম্যানস করেছে বাংলাদেশ নারী দল। পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারানোর মাধ্যমে ৪ বছর পর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে জয়ের দেখা পায় জাহানারা-ফাহিমারা। পরের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে পায় অসাধারণ এক জয়। এরপরের দুই ম্যাচে জয় অনুমেয়ই ছিল বাংলাদেশের জন্য।

সবমিলিয়ে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন নিয়ে মালয়েশিয়া গিয়ে, দুর্দান্ত খেলেই সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে বাংলাদেশ নারী দল। সামনে সুযোগ এবার প্রথমবারের মতো দেশের হয়ে কোন বহুজাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতার। দেখার বিষয় ফাইনাল খেলার স্বপ্নপূরণের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফাইনাল জয় করতে পারে কিনা বাংলাদেশ। নাকি আবারও আরেকটি ফাইনাল আরও একটি দুঃস্বপ্নই হয়ে থাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য।