ec

খুলনার ভুলক্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে চার সিটিতে সব দলের কাছে আস্থার জায়গা করে নিতে নতুন কৌশলে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঈদের পর চার সিটিতে ভোট আয়োজন করতে যাচ্ছে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি।

স্থগিত হওয়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণ করা হবে ২৬ জুন। আর সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটিতে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ জুলাই। খুলনা সিটিতে নানা অনিয়মের কারণে এমনিতেই বিতর্কের মুখে রয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। একদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগে চার সিটির ভোটকে ইসির জন্য অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে তিন সিটি নির্বাচনে প্রচারণার সুযোগ পেতে পারেন ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা।

এ পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ভোটের স্বার্থে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি বরাবরই সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনকে ইসির শেষ পরীক্ষা বলেও ঘোষণা করেছে দলটির নেতারা। সম্প্রতি বরিশাল সিটিতে সফররত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বিএনপির এ দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।

সেনাবাহিনী ছাড়াই চার সিটিতে ইসি সুষ্ঠুভাবে ভোট আয়োজনে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন তিনি। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নতুন ছক আঁকার কথা বলছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গাজীপুর সিটিতে সুষ্ঠু নির্বাচন করার পরিকল্পনা করবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘খুলনা সিটি করপোরেশন ভোটের অভিজ্ঞতার ত্রুটি ও ঘাটতি পর্যালোচনা করে আমরা নতুন নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ নির্বাচনে ইসির অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের টিম করে পাঠানো হবে। ব্যাপক আকারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে। এছাড়া ওয়ার্ডে, ওয়ার্ডে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে আগের যে কোন নির্বাচনের চেয়ে বেশি।’

‘সব দলকে সমান সুযোগ দিয়ে সুষ্ঠ নির্বাচন করতে যা প্রযোজন হবে নির্বাচন কমিশন তাই করবে। সংসদ নির্বাচনের আগে গাজীপুরকে আমরা টার্গেট করছি। এ নির্বাচন হবে রোল মডেল।’

ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুলনায় ইসির জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল পুলিশ ও প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করা। ১৫ মে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে বেশকিছু কেন্দ্রে গোলযোগ হলেও ইসি মাত্র তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে। ওই কেন্দ্রগুলোতে অনিয়মের বিষয়টি তদন্তে নামে ইসি। তদন্তে জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও পুলিশ বেশিরভাগ অনিয়মের জন্য দায়ী। তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হলেও বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন।

পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো প্রায় শতাধিক কেন্দ্রে ১২ রকমের অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে। এদিকে এমপিদের প্রচারণার সুযোগ দিয়ে আচরণবিধি সংশোধন করছে নির্বাচন কমিশন। ফলে তিন সিটিতে এমপিরাও প্রচারের সুযোগ পেতে পারে।

এদিকে সংসদ সদস্যরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের হওয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়েও অনেকটা চিন্তিত নির্বাচন কমিশন।

সূত্র জানায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ২২ জন ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ২৪ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রাখা হবে। তবে কমিশন রিজার্ভে আরও নিরাপত্তা সদস্য রাখার পরিকল্পনা করছে। পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে মোবাইল ফোর্স এবং প্রতিটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাবের টিম এবং বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ভোটের দুই দিন আগে, ভোটের দিন এবং ভোটের পরে একদিন মিলিয়ে চার দিন মাঠে থাকবে।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুটি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ব্যবহার করে সফলতা পাওয়ায় গাজীপুরের ৬টি কেন্দ্রেও এ মেশিন ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

নির্বাচন পরিচালনা শাখা জানায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৫৪, ১৫৫, ১৭৪, ১৭৫, ১৯১ ও ১৯২ নম্বর ভোট কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে দুটি করে ভোট কক্ষে ইভিএমে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সূত্র জানায়, আগামী ২৬ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সেক্ষেত্রে ১৮ জুন থেকে প্রচারণা চালাতে পারবেন গাজীপুর সিটির প্রার্থীরা।

এর আগে সীমানা জটিলতার কারণে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গাজীপুরের ভোট স্থগিত করেছিল আদালত। আপিল বিভাগ ওই আদেশে গত (১০ মে) স্থগিত করে এবং ২৮ জুনের মধ্যে ভোটের কথা বলেছে। এ সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে ইসিকে। গত ৩১ মার্চ গাজীপুরের তফসিল হয়। ১৫ মে ভোটের ৯ দিন আগে তা স্থগিত করা হয়। ১০ মে এ স্থগিতাদেশ ফের স্থগিত করে আপিল বিভাগ।

অন্যদিকে ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ২৮ জুন। প্রার্থীতা যাচাই-বাছাই ১ ও ২ জুলাই। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ জুলাই। ১০ জুলাই চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। ৩০ জুলাই এ তিন সিটির ভোটগ্রহণ করা হবে। এই তিন সিটিতে ইভিএম ও সিসি টিভি ব্যবহারের কথাও রয়েছে।