manna

দুঃখের কথা, আফসোসের কথা বলে মানুষের মন গলানো যাবে না মন্তব্য করে বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি ‘সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে’ রাজপথে নামার পরামর্শ দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির কোনো পথ নেই বলে মনে করছেন তিনি।
শনিবার সন্ধ্যায় বিজয়নগরের একটি হোটেলে বিএনপিপন্থি ‘শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট’র আলোচনা সভায় মান্না বলেন, “ঐক্যের জন্য আমরা কাজ করছি। আমি মনে করি, এ রকম ঐক্য সঠিক সময়ে সঠিকভাবে গড়ে উঠলে উঠতেও পারে। তার মানে এই নয় যে, আপনারা (বিএনপির নেতাকার্মীরা) তাদের জন্য বসে থাকবেন।
“যেইভাবে কোটার দাবিতে ছাত্ররা নেমেছিল, যেভাবে এই দেশের পেশাজীবীরা নেমেছিলেন, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে নামতে হবে। তাহলেই এরা মাথা নত করবে, এরা দেশ ছেড়ে পালাবে। তবেই আপনাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেলের তালা ভেঙে বীরের বেশে ফিরে আসতে পারবেন। তা না হলে শুধু দুঃখের কথা বলে, আফসোসের কথা বলে মানুষের মনকে গলাতে পারবেন না।”

কয়েক বছর আগে আওয়ামী লীগের পদ হারানোর পর নতুন দল গড়ে তোলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার কারাবাস চার মাস পূর্ণ হয়েছে শুক্রবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার কারাবাস চার মাস পূর্ণ হয়েছে শুক্রবার ক্ষমতাসীনদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এরা মানুষ মেরে লাশের উপর দিয়ে আবার ক্ষমতায় যেতে চায়। বাঁচাতে যদি চান, তাহলে লড়াই করবার জন্য প্রস্তুত হন। যে সরকারকে মানুষ মেরে লাশ ফেলে রাখবার পরেও জবাবদিহি করবার দরকার হয় না, তাদের ভোটের দারকার নাই। “বেগম জিয়া যদি মৃত্যুবরণও করেন, তাদের হৃদয় এতটুকু বিচলিত হবে না। কাজেই লড়াই করতে হবে।”

‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের অভাবে বিপর্যস্ত শিক্ষা ব্যবস্থা’ শিরোনামের এই আলোচনা অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান মান্না। তিনি বলেন, “আপনারা আপনাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে অনেকবার অনেক কথা বলেছেন। আপনাদের মনে কষ্ট দেবার জন্য বলছি না। যদি মনে করেন, বিএনপি একটা বড় দল অথবা বিএনপি অন্যান্য দলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি দিলেই বিজয়ের পানে ছুটে চলবেন, তাহলে ভুল করবেন। এ রকম একটা জবরদস্তিমূলক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করবার জন্য সর্বব্যাপী ঐক্য লাগবে।

“এই যে একটার পর একটা জামিন বাতিল করা হচ্ছে। নতুন নতুন মামলা দেওয়া হচ্ছে বেগম জিয়ার নামে- এটা কত বড় অন্যায়! বিচার বিভাগ তার জবাব দেবে না। কারণ সরকারের জবাবদিহি নাই। তবে আমি মনে করি, উনি (খালেদা জিয়া) বিজয়ীর বেশেই বেরিয়ে আসবেন।” গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে বন্দি আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই মামলায় জামিন পেলেও নাশকতা ও মানহানির আরও কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় আটকে গেছে তার কারামুক্তি।

কারাগারে স্যাঁতসেঁতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অভিযোগ করে তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি করছে বিএনপি।
এরমধ্যে শনিবার বিকালে কারাগারে খালেদাকে দেখে এসে তার একজন চিকিৎসক বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

আলোচনায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত বন্দুকযুদ্ধে প্রাণহানির সমালোচনাও করেন মাহমুদুর রহমান মান্না। এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের বক্তব্য উদ্বৃত করে তিনি বলেন, “সংসদেই তো ইয়াবা ব্যবসায়ী আছেন। অথচ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বললেন, একজন এমপিকে তো এমনি এমনি গ্রেপ্তার করা যায় না, প্রমাণ থাকতে হয়। “যদি তাই হয়, তাহলে এই যে ১৫৬ জনকে যে হত্যা করা হল এদের সবার নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এরা কারা, এদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, এদের বিরুদ্ধে মামলা আছে কি না, মামলা থাকলে বিচার শুরু হয়েছে কি না, তা জানাতে হবে।”

প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য ‘কিছু নাই’ মন্তব্য করে মান্না বলেন, “একটা বাজেট দিয়েছে যারা চোর, ব্যাংক লুট করেছে, তাদের জন্য হাজার হাজার টাকা রেখেছে। সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নাই। ছাত্র-যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নাই।”

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আজকে মেগা প্রজেক্ট নেওয়া হচ্ছে। আমি বলি মেগা প্রজেক্টের নামে এখন মেগা লুটপাট চলছে। “বলা হচ্ছে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি। অথচ এই পদ্মা সেতুর প্রকল্প প্রস্তাব যখন প্রথম জমা দেওয়া হয় তখন সেটার পরিমাণ ছিল সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। এখন সেই প্রকল্পে অর্থের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই প্রকল্প শেষ হতে বেড়ে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা হয়ে যাবে।”

কলেজ শিক্ষক সমিতির প্রেসিডিয়াম সদস্য তফাজ্জল হোসেন, শিক্ষকনেতা লোকমান হোসেন ছাড়াও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতারা সভায় বক্তব্য রাখেন।