jamm

শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টা। রাজধানীর নিউমার্কেট। শহিদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মার্কেটের এক নম্বর গেটের অদূরে নীলক্ষেত মোড়ের সিগন্যাল বাতির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা পুরান ঢাকার বেচারাম দেউরি থেকে এসেছেন। সিগন্যালে অপেক্ষমাণ দুজন রিকশাচালককে বেচারাম দেউরি যাবেন কি না জিজ্ঞাসা করছিলেন শহিদ হোসন। তার কথা শুনেও না শোনার ভান ধরে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকলেন দুই রিকশাচালক। এক রিকশাচালক যেতে রাজি হলেও ভাড়া হাঁকলেন বেশি। কারণ জানতে চাইলে ওই রিকশাচালক বললেন, ‘দেহেন না রাইত ১২টার সময়ও কেমন যানজট লাইগ্যা রইছে। এক নম্বর গেট থাইক্যা পাঁচ মিনিটেও সিগন্যাল পার হইতে পারলাম না।’
শহীদ হোসেন রিকশাচালকের যুক্তি মেনে নিয়ে রিকশায় উঠে বসেন। তিনি সামনে তাকিয়ে দেখেন মিরপুর রোডের দুই পাশে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও রিকশার যানজট লেগে আছে।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে শহীদ হোসেন বলেন, দিনের বেলা ও সন্ধ্যার পর মার্কেটে ভিড় থাকে। তাই একটু নিরিবিলি সময় খুঁজছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ৯টার পর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে এই মার্কেটে আসেন। তাদের জন্য ঈদের পোশাক, জুতা ও কসমেটিকস কিনেছেন তিনি।

‌‌’রাতে এসেও লাভ হলো না। মার্কেটে সেই দিনের মতোই বেশ ভিড়’,- বলেন তিনি।

ঈদকে সামনে রেখে গভীর রাতেও নিউমার্কেট, চাঁদনীচক, গাউছিয়া ও হকার্স মার্কেটসহ বিভিন্ন ছোটবড় মার্কেটে মানুষের ভিড় রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নীলক্ষেত মোড় থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি পর্যন্ত দিনের ব্যস্ত সময়ের মতো যানজট। মার্কেটগুলোর ভেতরে-বাইরে ফুটপাতে ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগুনা ও হাকডাক। রাত ১২টা বাজতে চললেও দোকানগুলো বন্ধ করার কোনো লক্ষণ নেই।

হকার্স মার্কেটের একজন দোকানি জানালেন আগামী কয়েকদিন রাত ১-২টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা থাকবে।