আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইকনোমিকস অ্যান্ড পিসের বৈশ্বিক শান্তি সূচকে বড় অবনমন ঘটেছে বাংলাদেশের, যার প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে রোহিঙ্গা সঙ্কটের কথা। সিডনিভিত্তিক এ সংস্থা বুধবার তাদের ২০১৮ সালের যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে ১৬৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এবার গতবারের তুলনায় ১০ ধাপ পিছিয়ে ৯৩তম অবস্থানে রয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর ইকনোমিকস অ্যান্ড পিস বলছে, বিশ্বে গত এক দশকের মধ্যে এখন সবচেয়ে কম শান্তি বিরাজ করছে। সংঘাত এড়াতে যে বিপুল সংখ্যক মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রাণ হাতে পালাতে হচ্ছে, ত বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক শতাংশ প্রায়। সাম্প্রতিক ইতিহাসে আর কখনও এত বেশি মানুষকে শরণার্থী হতে হযনি।

সমাজে বিদ্যমান অপরাধ প্রবণতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, সংঘাতে মৃত্যু, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা, অস্ত্রের বিস্তারসহ ২৩টি বিষয় মূল্যায়ন করে এই সূচক তৈরি করেছে ইনস্টিটিউট ফর ইকনোমিকস অ্যান্ড পিস। দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর সহিংসতা কী প্রভাব ফেলেছে তাও বিবেচনায় আনা হয়েছে এক্ষেত্রে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে সংঘাত-সহিংসতার কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ৭৬ ট্রিলিয়ন ডলার। এই অংক বিশ্বের মোট উৎপাদনের ১২ দশমিক ৪ শতাংশ।

ইনস্টিটিউট ফর ইকনোমিকস অ্যান্ড পিসের বিচারে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসবাদের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি হলেও তালিকায় অবনমন ঠেকানো যায়নি ‘বাহ্যিক সংঘাতের’ প্রভাবের কারণে। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের রাখাইনে দমনপীড়নের কারণে ২০১৭ সালের অগাস্ট থেকে এ পর্যন্ত পালিয়ে আসা সাত লাখ রোহিঙ্গার ভার এখন বাংলাদেশকেই বইতে হচ্ছে। এই সূচকে মিয়ানমার গতবারের তুলনায় ১৫ ধাপ পিছিয়ে ১২২তম অবস্থানে নেমে এসেছে এবার। এর কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমে আসা এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদের সঙ্গে রাখাইনের বৌদ্ধদের উত্তেজনা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ইনস্টিটিউট ফর ইকনোমিকস অ্যান্ড পিস বলছে, মিয়ানমারে এই পরিস্থিতির কারণে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের সীমান্তে এক মানবিক সঙ্কটের তৈরি হয়েছে।

রাখাইনের মুসলমান ও বৌদ্ধদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা মিয়ানমারের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ায় ঝুঁকির পরিমাণও দিন দিন বাড়ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে দুই ধর্মের মানুষেরই। বিশ্বের নয়টি অঞ্চলের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া আগের মতই আছে আট নম্বরে, যদিও সার্বিকভাবে এ অঞ্চলের স্কোর কিছুটা বেড়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার সাত দেশের মধ্যে সবার নিচে থাকা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেছে। তবে সবার উপরে থাকা ভুটান ও শ্রীলঙ্কা আর উন্নতি দেখিয়েছে। এ অঞ্চলের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতের সার্বিক স্কোর সামান্য বেড়েছে। তবে সব ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে কেন্দ্রীভূত হতে থাকায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সূচকে স্কোর কমেছে ভারতের। এবারের সূচকে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে আইসল্যান্ড। শীর্ষ দশের বাকি দেশগুলো হল- নিউ জিল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, ডেনমার্ক, কানাডা, চেক রিপাবলিক, সিঙ্গাপুর, জাপান ও আয়ারল্যান্ড। শান্তি সূচকে সবচেয়ে নিচের অবস্থানে রয়েছে সিরিয়া। সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকা দশ দেশের বাকি নয়টি হল- আফগানিস্তান, সাউথ সুদান, ইরাক, সোমালিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও রাশিয়া।