bappi

বাংলাদেশের শ্যামল প্রকৃতির মাঝে হাত-পা ছড়িয়ে একঝাঁক শিশু রঙ-বেরঙের ছবি আঁকছে, গান গাইছে, খেলাধুলা করছে। তারা কেউ এই দেশের নয়, এই দেশে আশ্রিত। নিজেদের মাতৃভূমি ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে ছুটে আসা রোহিঙ্গা শিশু তারা। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য চলছে একের পর এক কার্যক্রম। তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন অনেকেই। এবার সেই মিছিলেই সামিল হলেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক বাপ্পি চৌধুরী।

কক্সবাজারে কয়েকদিন থেকেই ‘নায়ক’ সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন বাপ্পি। শুটিং শেষ করে মঙ্গলবার ছুটে গিয়েছিলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এদিন সকাল থেকেই অনেকটা সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাটিয়েছেন তিনি। মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিলেন সেখানকার শিশুদের সঙ্গে। কক্সবাজার শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে জমাতলিতে সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সময় কাটে তার।
বাপ্পি জানালেন, রোহিঙ্গা শিবির দেখাতে তাকে সাহায্য করেছে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের কর্মীরা। এখানে বাঁশের তৈরি ছোট ছোটে ঘরে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের নির্যাতনে পালিয়ে আসা জনগোষ্ঠী মন কাঁদিয়েছে তারও।
এ বিষয়ে  বাপ্পি চৌধুরী বলেন, ‘শুনেছি ১০ লাখেরও অধিক মানুষ এখানে আশ্রয় নিয়েছে। আমি ওখানে ব্র্যাকের লার্নিং সেন্টারে গিয়েছিলাম। অনেক শিশু ওখানে ইংরেজি, বার্মিজ ভাষায় বর্ণমালা শিখছে। গান গাইছে। ছবি আঁকছে। খেলাধুলা করছে। অনেক প্রতিভাবান শিশুদের দেখেছি সেখানে। আমি তাদের সঙ্গে খেলায় অংশ নিয়েছি। এত ভালো সময় কাটিয়েছি সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।’

বাপ্পি শিশুদের মধ্যে চকলেট বিতরণ করেছেন। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গেও সময় কাটিয়েছেন। সেখানে বিবাহবিচ্ছেদের সমস্যা, শিক্ষার গুরুত্ব, ভবিষ্যতে নিজেদের ক্ষমতায়ন ও জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ে আলচনা করেন।

বাপ্পি এ বিষয়ে আরও বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের আশ্রয় দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। আমি আনন্দিত যে আমার কারণে সেখানকার অসহায় মানুষগুলো কয়েক ঘণ্টার জন্য আনন্দে পার করেছেন।’

বাপ্পির ভাস্য ছিল এমন, মানবতার কল্যাণের জন্য প্রতিটি মানুষেরই এগিয়ে আসা উচিৎ। তাহলে পৃথিবীর কোনো মানুষকেই আর কষ্টে দিন কাটাতে হবে।