ticket

মধ্যরাতে সেহরি খেয়ে আবার কেউ সকালে এসে টিকিট কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। দীর্ঘসময় অপেক্ষার পর নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা থেকে কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। রাত থেকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলেও অনেকেই ট্রেনের এসি কেবিনের টিকিট পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। আবার কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রিতে ধীরগতির অভিযোগ তুলে টিকিটপ্রত্যাশীরা বলছেন, কাউন্টারে ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেক বেশি।

আজ (রোববার) দেয়া হচ্ছে ১২ জুনের অগ্রিম টিকিট। গত দুইদিনের তুলনায় আজ টিকিটপ্রত্যাশীদের ছিল ব্যাপক ভিড়। সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে উত্তরবঙ্গগামী রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুরের লাইনের টিকিট কাউন্টারগুলোতে। দুইদিনের তুলনায় এই লাইন কাউন্টারের সামনে থেকে শুরু করে একদম বাইরের দিকে চলে গেছে।

মধ্যরাত থেকে টিকিট কাউন্টারের সামনের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অঙ্কন আহমেদ। ১২ জুনের রাজশাহীর টিকিট নেবেন। তিনি বলেন, আমার ভাইয়া, ভাবি আর আমি মিলে ঈদ করতে রাজশাহী যাবো। ভাবি অসুস্থ তাই এসি কেবিনে যেতে হবে, আর তাই শত কষ্ট উপেক্ষা করে সারারাত লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু সকাল ৮টায় যখন টিকিট বিক্রি শুরু হলো তার অল্পসময়ের মধ্যে কাউন্টারে এসি কেবিনের টিকিট চাওয়া হলে জানানো হয় টিকিট শেষ।

এত অল্পসময়ের মধ্যে কীভাবে টিকিট শেষ হয়ে গেল তা জানতে চাইলে কাউন্টার থেকে বলা হয়, এসি টিকিটের সংখ্যা কম, তাই সবাইকে তো এসি টিকিট দেয়া সম্ভব না। অঙ্কন আহমেদ বলেন, গত রাত থেকে এত কষ্ট করে টিকিটের জন্য দাঁড়িয়ে থাকলাম, আর যদি টিকিট বিক্রির শুরুতেই বলা হয় এসি কেবিন শেষ, তাহলে এটা কীভাবে সম্ভব?
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেসের এসি টিকিটের জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে রাহাত হোসেনও জানালেন একই অভিযোগ। তিনি বলেন, টিকিট বিক্রি শুরুর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে কাউন্টার থেকে জানানো হলো টিকিট শেষ। শুরুতে দাঁড়িয়ে আমরাই যদি টিকিট না পাই তাহলে কেমন লাগবে বলুন?

রংপুর এক্সপ্রেসের টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়ানো রঞ্জু শাহ অভিযোগ করে বলেন, হাজার হাজার মানুষ টিকিট কাউন্টারগুলোর সামনে সিরিয়ালে দাঁড়ানো, অনেক মানুষ মধ্যরাত, সেহেরির পর থেকে এখানে এসে কষ্ট করে লাইনে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কাউন্টারের লোকজন ধীরগতিতে কাজ করার জন্য টিকিট পেতে বেশি সময় লাগছে, এতে করে অপেক্ষমাণ টিকিটপ্রত্যাশীরা অধৈর্য হয়ে যাচ্ছেন।

টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বরত আব্দুল আজিজ বলেন, সকাল ৮টাকা থেকে বিরতিহীনভাবে আমরা টিকিট বিক্রি করছি। অনেক সময় সার্ভার স্লো থাকলে প্রতি টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া শেষ হতে মাঝেমাঝে কিছু বেশি সময় লাগে। যে কারণে মাঝে মাঝে সামান্য ধীরগতি হতে পারে। এছাড়া সবাই সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করলে আমরা ভালোভাবে বিতরণ করতে পারবো।
শুরুতেই এসি টিকিট শেষ- এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, আমদের সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদের মধ্যেই চেষ্টা করছি। ঈদের সময় যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে এসি কেবিন, এসি সিটের। কিন্তু কেবিনের পরিমাণ তো সীমিত। তাই ইচ্ছে করলেই চাহিদামতো সবাইকে দেয়া সম্ভব নয়। সব স্টেশনের জন্য তো আর পর্যাপ্ত এসি ক্যাবিন থাকে না। এমন হতে পারে অভিযোগকারীরা যে স্টেশনের জন্য চেয়েছেন সেখানার জন্য হয়তোবা কোটা শেষ যে কারণে তারা পাননি।

অগ্রিম টিকিটের সার্বিক বিষয় সুশৃঙ্খল রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ছাড়াও রেলওয়ের নিজস্ব বাহিনী উপস্থিত আছেন বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, কমলাপুর স্টেশনে এবার টিকিট কাউন্টারের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৬টি করা হয়েছ। গত ১ জুন থেকে শুরু হওয়া ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি চলবে ৬ জুন পর্যন্ত। আজ দেয়া হচ্ছে ১২ জুনের টিকিট, ৪ জুন দেয়া হবে ১৩ জুনের টিকিট, ৫ জুন ১৪ জুনের টিকিট এবং ৬ জুন ১৫ জুনের টিকিট দেয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে। একজন যাত্রী একসঙ্গে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।