amu-120151227150144

জামদানি শিল্পনগরীতে জামদানি তাঁতশিল্পী ছাড়া অন্য কারো নামে প্লট বরাদ্দ থাকলে তা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে দশ দিনব্যাপী জামদানি প্রদর্শনী-২০১৮ উদ্বোধনকালে মন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।
বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহা. ইফতিখারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী জামদানি শিল্পনগরির সব প্লটে গুণগতমানের জামদানি শিল্প স্থাপনে লক্ষ্যে বিসিকের নজরদারি ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, শিল্পনগরিতে জামদানি তাঁতশিল্পী ছাড়া অন্য কারো নামে কোনো প্লট বরাদ্দ থাকলে তা দ্রুত বাতিল করে প্রকৃত তাঁতীদের মাঝে বরাদ্দ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমু বলেন, স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গৃহিত নীতির ফলে ঝিমিয়ে পড়া জামদানি শিল্পে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসে। দেশের জামদানি শিল্প এখন ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত। জামদানি শিল্পকে ঐতিহ্যবাহী মসলিনের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে জামদানিকে দেশের প্রথম জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। এর ফলে বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন দেশিয় ঐতিহ্যবাহী পণ্য হিসেবে জামদানির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ উদ্যোগ জামদানির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়াবে। এ শিল্পে পণ্য বৈচিত্রকরণের লক্ষ্যে বিসিক জামদানি তাঁতীদের মাঝে নকশা বিতরণ, প্রশিক্ষণ, ঋণ সহায়তা, বিপণন অবকাঠামো তৈরিসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। জামদানি শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিসিক পরিচালিত গবেষণার সুপারিশ বাস্তবায়নে শিল্প মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহায়তা দেবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ঐতিহ্যবাহী মসলিন, জামদানি, বেনারসি, সিল্ক, কাতান, টাঙ্গাইল শাড়িসহ বিভিন্ন বস্ত্র এবং পাট শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে পদ্মা নদীর ওপাড়ে প্রায় দুই হাজার কোটি ব্যয়ে নতুন তাঁতপল্লী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে উদ্যোক্তাদের জন্য প্লট, ঋণ সুবিধা, আবাসন, শ্রমিকদের ছেলে-মেয়েদের জন্য শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সংশ্লিষ্ট সব সুবিধাদি নিশ্চিত করা হবে। জামদানি শিল্পের উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে বিসিকের পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ও সম্ভবমত সব ধরনের সহায়তা দিতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, জামদানি শিল্পে সরাসরি প্রায় ১৫ হাজার মানুষ জড়িত। প্রতিবছর দেশে গড়ে এক লাখ পিসেরও বেশি জামদানি শাড়ি উৎপাদিত হচ্ছে। জামদানি শাড়ি ছাড়াও ইদানিং পাঞ্জাবি, ফতুয়া, মানিব্যাগ, রুমাল, হাতব্যাগ, মেয়েদের পোশাক, টেবিল ক্লথ ইত্যাদিতে জামদানি নকশার ব্যবহার বাড়ছে। বর্তমানে দেশের তৈরি জামদানি শাড়ি ও বস্ত্র ভারত, ভিয়েতনামসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে রফতানি হচ্ছে।

দশ দিনব্যাপী আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে ৩৫টি জামদানি শাড়ী ও বস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনী প্রতিদিনি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।