inter

রমজান মাস আর উষ্ণ আবহাওয়া। রাস্তার যানজটতো আছেই। তারওপর দোকানির সঙ্গে দর কষাকষি। এখন অনেকেই এসব ঝামেলা থেকে সরে এসেছেন। ঝুঁকছেন অনলাইন কেনাকাটার দিকে। ঘরে বসে ছবি দেখে অর্ডার করে পণ্য কিনছেন তারা। এবারের ঈদের মৌসুমে অনেকেই কেনাকাটার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন ই-কমার্স সাইটগুলো। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে শপিংমলের মতোই ভার্চুয়াল জগতে আনারকলি, গাউন আর পাঞ্জাবি বিক্রি করছে সাইটগুলো। ৪০ থেকে ১০০ টাকার চার্জের বিনিময়ে একদিনের মধ্যে পণ্য পৌঁছে যাবে ক্রেতার ঘরে।

ঈদের জমজমাট বাজার নিয়ে বসেছে ই-কমার্স সাইট ‘অথবা ডটকম’। পোর্টালটিতে মেয়েদের গাউন, কটন থ্রিপিস, শাড়ি, ছেলেদের পাঞ্জাবি, পায়জামা, কোটি (ভেস্ট কোট) ফতুয়া বিক্রি হচ্ছে। মেয়েদের বাটারফ্লাই সিল্কের মধ্যে বিভিন্ন রংয়ের গাউন বিক্রি হচ্ছে ২১০০ থেকে ২২৫০ টাকায়। আড়াই হাজার টাকা থেকে তিন হাজার টাকায় টাঙ্গাইলের শাড়ি আর ৬০০ টাকায় কটন ব্লক প্রিন্ট থ্রিপিস পাওয়া যাচ্ছে। অ্যামব্রয়ডারি জামা বিক্রি হচ্ছে ১৯০০ থেকে ২৫৫০ টাকায়। এগুলো সবই ফ্রি সাইজ এবং সেলাইবিহীন (আনস্টিচড)। তাই সাইজ নিয়ে কোনো চিন্তা নেই।
ছেলেদের জন্য ‘অথবা ডটকমে’ শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, পায়জামা, পোলো শার্ট ও প্যান্ট পাওয়া যাচ্ছে। টি-শার্টের দাম শুরু ১৫০ টাকা থেকে আর পাঞ্জাবি সর্বনিম্ন ৫৯০ থেকে ২৪৯০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যতম ই-কমার্স সাইট ‘আজকেরডিল ডটকমে’ পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে ৩৯০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। সাইটটিতে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকায় ইন্ডিয়া পিওর সিল্ক শাড়ি বিক্রি হচ্ছে। আর সর্বনিম্ন জাপানি সিল্ক শাড়ি ৪৫০ টাকা।

দেশে অনলাইনে কেনাকাটার সবচেয়ে বড় বাজার ‘দারাজডটকম ডটবিডি’ এবারের ঈদে ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবি, ফতুয়া, ভেস্ট কোট ও পায়জামার নতুন কালেকশন এনেছে। কটনের পাঞ্জাবির দাম ৪৬০ টাকা থেকে শুরু। সর্বোচ্চ বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ৯৯০ টাকায়।

মেয়েদের জন্য দারাজে রয়েছে শাড়ি, কটন কামিজ, লনের কামিজ, আনারকলি ও গাউনের কালেকশন। মাত্র ৮০০ টাকায় জর্জেটের গাউন মিলছে এখানে। এখানকার সবচেয়ে দামি সিল্কের গাউনের দাম ১৪ হাজার টাকা। সাইটটিতে সর্বনিম্ন ৪৯৯ টাকায় জাপানি সিল্ক শাড়ি এবং সর্বোচ্চ ৫২ হাজার টাকার হাফ সিল্ক জামদানি শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। মিলছে জর্জেটের হিজাব ও বোরকা।

প্রতিযোগিতামূলক দামের পাশাপাশি সাইটগুলোতে রয়েছে স্থানীয় ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেও কেনাকাটার সুবিধা। রয়েছে পে-অন ডেলিভারি সুবিধার।

‘দারাজডটকম ডটবিডি’র পাবলিক রিলেশন ও কমিউনিকেশন বিভাগের ম্যানেজার সায়ন্তনী তিশা জাগো নিউজকে বলেন, এবার অনলাইনে ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতাদের অনেক ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সারা বছরের চেয়ে এই সময়টাতে ৬-৭ গুণ বেশি বিক্রি হয়। রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা চার ধাপে ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা করেছি। বর্তমানে ‘ঈদ মোবাইল মেলা’ নামে একটি ক্যাম্পেইন চলছে। এতেও খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। ঈদে অনলাইনে কেনাকাটায় গ্রাহকরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
এদিকে ই-কমার্স সাইটের পাশাপাশি আর্ট অ্যান্ড ইস্টিচড, রমনীর সাজ ও নীল আকাশ’র মতো ফেসবুক পেইজগুলোও বসেছে ঈদের কালেকশন নিয়ে। পেইজগুলোর বেশিরভাগই ভারতীয় পোশাকের কালেকশন।

এসব পেইজের ওনাররা (মালিক) বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। সেইসঙ্গে ই-কমার্স সাইটগুলোর সার্ভিসে গ্রাহকের মধ্যে একটা আস্থা তৈরি হয়েছে। তাই অন্যবারের তুলনায় এবার বিক্রি বেশি।

অনলাইন শপের ক্রেতা ফারজানা সুলতানা জাগো নিউজকে বলেন, অনলাইন শপ আমাদের অনেক সময় ও টাকা বাচায়। যানজট পাড়ি দিয়ে শপিংমলে গিয়ে দরকষাকষিতে অনেকসময় ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু অনলাইনে পণ্য দেখে অর্ডারের সুযোগ আছে, পছন্দ না হলে ফেরতেরও সুযোগ থাকে। সবমিলে অনেক সময় ও টাকা বাচে। যদি বাংলাদেশের ই-কমার্স সাইটগুলো তাদের সততা ধরে রাখে তাহলে আগামীতে দেশের অর্ধেক লোকই অনলাইনে কেনাকাটা করবে।