facebook

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ২.৯ কোটি পোস্ট সরিয়ে নিয়েছে বা পোস্টদাতাকে সতর্ক করেছে ফেইসবুক। ঘৃণাত্মক বক্তব্য, সহিংস ছবি, সন্ত্রাসবাদ এবং যৌনতা ছড়াতে প্রতিষ্ঠানটির নীতিমালা অমান্য করায় এই পোস্টগুলো সরানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সবচেয়ে বড় সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি।

নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে কী পরিমাণ চেষ্টা করা হয়েছে এবারই প্রথম তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে ফেইসবুক– খবর বিবিসি’র।

প্রতিষ্ঠানের ১৫ হাজার মডারেটরকে সহায়তা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুলও বানাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তাদের সফটওয়্যার কয়েক ধরনের হয়রানি শনাক্ত করতে জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছে।

তিন মাসে প্লাটফর্মটিতে পোস্ট করা মাত্র ৩৮ শতাংশ ঘৃণাত্মক বক্তব্য শণাক্ত করতে পেরেছে অ্যালগরিদম। বাকী ৬২ শতাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে কারণ গ্রাহক এগুলো নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে ফেইসবুকের দাবি, ইসলামিক স্টেট, আল-কায়েদা এবং অন্যান্য চরমপন্থী সংগঠনকে সমর্থন করে ছড়ানো ৯৯.৫ শতাংশ পোস্ট শনাক্ত করতে পেরেছে তাদের টুল। মাত্র ০.৫ শতাংশ পোস্ট শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যে আরও দেখা গেছে আগের তিন মাসের চেয়ে জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকে প্লাটফর্মটিতে সহিংস ছবি এবং নগ্নতার পরিমাণ বেড়েছে।

ফেইসবুকের পণ্য ব্যবস্থাপনা প্রধান গাই রোজেন বলেন, “আমরা যেহেতু কাজটি করার সহজ উপায় শিখতে পেরেছি, আমরা প্রক্রিয়াটি উন্নত করবো।”

ফেইসবুকে নিষিদ্ধ উপাদানগুলোকে ভাগ করা হয়েছে কয়েকটি শ্রেণিতে:

হিংস্র বক্তব্য
নগ্নতা এবং যৌন উপাদান
স্প্যাম
ঘৃণাত্মক বক্তব্য
ভুয়া অ্যাকাউন্ট
ফেইসবুকের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, তাদের ধারণা তিন থেকে চার শতাংশ সক্রিয় গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ভুয়া। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ৫৮.৩ কোটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট সরানো হয়েছে বলেও জানানো হয়।

বছরের প্রথম তিন মাস এবং এর আগে ঘৃণাত্মক বক্তব্য মারাত্মকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। এ সময়ে এ ধরনের হয়রানির পরিমাণ বেড়েছে ১৮৩ শতাংশ। আরও ভালো শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মিশ্রণ এবং সিরিয়ায় দ্বন্দ্বের তীব্রতা বাড়ায় এমনটা হতে পারে বলে জানিয়েছে ফেইসবুক।

জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকে ১৯ লাখ চরমপন্থী উপাদান সরিয়েছে ফেইসবুক, যা আগের প্রান্তিকের চেয়ে ৭৩ শতাংশ বেশি।

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার ব্র্যান্ডি নোনেকে বলেন, “প্লাটফর্মে কোনটা সুরক্ষিত বক্তব্য এবং কোনটা নয় তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা।”

“তাদের হাতে অনেক কাজ রয়েছে” বলেও মন্তব্য করেছেন নোনেকে।

স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘৃণাত্মক বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করাটা আরও জটিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবিসি’র প্রতিবেদনে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে ঘৃণাত্মক বক্তব্যবিষয়ক ২৫ লাখ পোস্ট সরিয়েছে ফেইসবুক, যা আগের বছরের আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি।

এ ধরনের উপাদান শনাক্ত করতে মানব কর্মী রয়েছে ফেইসবুকের। কিন্তু কোন উপাদান থাকবে এবং কোনটি সরানো হবে সে সিদ্ধান্ত নিতে তারাও সমস্যায় পড়েন।

ফেইসবুকের ডেটা অ্যানালিটিকস প্রধান অ্যালেক্স শুৎজ বলেন, “এখানে সামান্য পার্থক্য আছে, এমন বিষয় আছে যেগুলো এখনও প্রযুক্তি করতে পারছে না।”

“তাই, এসব ক্ষেত্রে আমাদেরকে এখনও আমাদের পর্যালোচনা দলের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হয়, যারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন কোনটি সরানো প্রয়োজন,” যোগ করেন শুৎজ।

ফেইসবুকে কোন ধরনের পোস্টগুলো এড়িয়ে যাওয়া হতে পারে তা বের করতে এলোমেলোভাবে নমুনা সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ফেইসবুকে প্রকাশ করা অনির্দিষ্ট সংখ্যক পোস্ট নেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে কয়বার একটি উপাদান তাদের নীতিমালা অমান্য করছে। এতে যে ফলাফল পাওয়া গেছে তা যথেষ্ট জটিল বলেও উল্লেখ করা হয় বিবিসি’র প্রতিবেদনে।

নমুনা অনুসারে প্রতি ১০ হাজার পোস্টের মধ্যে ২৭টি পোস্টে কোনো না কোনো ধরনের সহিংস ছবি থাকে। এই হিসাবে দৈনিক সক্রিয় দেড়শ’ কোটি গ্রাহকের প্লাটফর্মটিতে প্রতিদিন কোটি কোটি পোস্ট অনিয়ন্ত্রিতভাবেই থেকে যাচ্ছে।

একই কৌশল ব্যবহার করে দেখা গেছে প্রতি ১০ হাজার পোস্টের মধ্যে সাত থেকে নয়টি পোস্ট থাকে যেগুলোতে নগ্নতা বা যৌন উপাদান রয়েছে।

শুৎজ বলেন, এই কৌশলে সন্ত্রাসবাদের পোস্ট শনাক্ত করার জন্য যে পরিমাণ উপাদান দরকার সে পরিমাণ সন্ত্রাসবাদের উপাদান নেই। পুরো উপাদানের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের কাছে এ ধরনের “নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য” নেই।

“বর্তমানে আমরা পরিমাপ করতে পারছি না ফেইসবুকে ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রকাশের হার কী পরিমাণ, কারণ, আমরা যখনা আমাদের প্রতিনিধিদের বলছি আপনার দেখুন, ‘এটি কী ঘৃণাত্মক বক্তব্য, নাকি নাকি না?’ এটি বের করাটা খুব জটিল।”

“আমরা ভুল করছি এবং আমরা আরও ভালো উপায় খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছি।”–বলেন শুৎজ।