dg-oihidul-haque

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থার সাবেক ভারপ্রাপ্ত ডিজি মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে ট্রাইব্যুনলের সেফ হোমে জিজ্ঞাসা করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

আগামী ১৫ মে তাকে তদন্ত সংস্থার সেফ হোমে নিয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে। সে সময় তার পক্ষে একজন আইনজীবী ও ডাক্তার উপস্থিত থাকবেন।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও রেজিয়া সুলতানা চমন, প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি, জাহিদ ইমাম ও তাপস কান্তি বল উপস্থিত ছিলেন।

পরে সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি ও রেজিয়া সুলতানা চমন জানান, আজ নির্ধারিত দিনে আসামিকে আদালতে হাজির করার পর তাকে চলতি মাসে ১৫ মে তদন্ত সংস্থার সেফ হোমে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন। এছাড়া ১০ জুলাই তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ওইদিন এই মামলার বিষয়ে শুনানির পরবর্তী তারিখ ঠিক করেছেন আদালত।

এর আগে (২৪ এপ্রিল) ব্লক- জে, রোড-২/ডি, বাড়ি নং-৩, বারিধারা থেকে ওয়াহিদুল হককে গ্রেফতার করা হয়। তার পরের দিন আদালতে হাজির করার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে ২৮ মার্চ ১৯৭১ সালে রংপুর ক্যান্টনমেন্টে ৫/৬’শ মানুষকে মেশিনগানে হত্যার অভিযোগ রয়েছে বলে প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছেন।

এনএসআই’র এই সাবেক কর্মকর্তা ১৬ অক্টোবর ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। ১৯৭০ সালের মার্চ মাসে রংপুর ক্যান্টনমেন্টে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত সেখানে থেকে বদলি হন পাকিস্তানে। ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানে অবস্থান করে ১৯৭৪ সালে দেশে ফিরেন। ওই বছরের শেষে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন।

পরে ১৯৭৬ সালে পুলিশ বাহিনীতে এএসপি পদে যোগ দেন। ১৯৯৬-৯৭ সালে তিনি এনএসআই’র ভারপ্রাপ্ত ডিজি ছিলেন। সবশেষ ২০০৫ সালে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে অবসর নেন।