90145_bnp

আগামী ১৫ মে খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৬ মে হাইকোর্ট গাজীপুরের নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে দেয়। যার ফলে গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক সবার নজর এখন খুলনা সিটি নির্বাচনের দিকে। তবে এই সিটির নির্বাচনও বাতিল হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি।

‘বর্তমান সরকার ইসিকে সঙ্গে নিয়ে খুলনার নির্বাচনও বাতিল করার নীল-নকশা করছে’ বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৯ মে) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এর আগে রাজধানীর গুলশান চেয়ারপারসন রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত ও বাতিল করতে সরকার ইসিকে সঙ্গে নিয়ে নীল-নকশা করছে। আমাদের কাছে সংবাদ এসেছে, ওই সংবাদের সত্যতার ব্যাপারে আমরা এখনও নিশ্চিত নই। সংবাদটি হল- এই নির্বাচনও (খুলনা সিটি) স্থগিত করার জন্য একটি রিট হতে পারে।’

এ কারণে তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নির্বাচন ঘোষণা করাই দরকার কি? আর নির্বাচন নির্বাচন খেলাই বা দরকার কি?’

‘যদিও নির্বাচন কমিশন (ইসি) বারবার বলছে, তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায়’ এ প্রসঙ্গে মহাসচিব বলেন, ‘গাজীপুর ও খুলনা নির্বাচনে আমাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, এতে করেই বুঝা যায়; সুষ্ঠু নির্বাচন করার যোগ্যতা এই নির্বাচন কমিশনের একেবারেই নেই।’

‘নির্বাচনী প্রচারে আমাদের বাঁধা দেয়া হচ্ছে। প্রচারে আমরা সমান সুযোগ পাচ্ছি না’ বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, ‘তারা (ইসি) দলীয় লোক হিসেবেই কাজ করছেন।’

তিনি অবিলম্বে খুলনার ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারকে প্রত্যাহার করার দাবি জানান। অন্যথায় সেখানে নির্বাচন করা খুবই দুরহ হয়ে যাবে বলে জানান।

গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিত হয়েছে, তবে খুলনা নির্বাচন রয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খুলনায় বর্তমান যে পরিস্থিতি, এতে করে সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ নেই। কারণ গতকাল বিএনপির প্রায় ১৫০ জন নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। যার ফলে খুলনায় নির্বাচনে কার্যক্রম ও প্রচারণা করা কষ্টকর হয়ে গেছে।’

আজ আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে গিয়ে হাস্যকর সব কথা বলেছেন। দলটির একজন বলেছেন, ‘খুলনাতে নাকি নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।’

এসময় ফখরুল আজকের বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্ত জানাতে আগামীকাল বিএনপির পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে যাবেন বলে জানান। তবে যাওয়ার সময়টা এখনো নির্ধারিত করেনি দলটি। দলটির নেতৃত্ব দেবেন নজরুল ইসলাম খান।

প্রসঙ্গত, খুলনা সিটিতে আওয়ামী লীগ মেয়র পদে প্রার্থী করেছে ২০০৮ সালে বিজয়ী এবং ২০১৩ সালে হেরে যাওয়া তালুকদার আবদুল খালেককে। আর পাঁচ বছর আগে বিজয়ী মেয়র মনিরুজ্জামান মনিকে পাল্টে বিএনপি প্রার্থী করেছে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।