bangladesh

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলার পথে নানা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড, নামফলক, ব্যানার, বিলবোর্ড ও লিফলেটে এখন বাংলা লেখা চোখে পড়ছে। যদিও কিছুদিন আগে এসবে বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি ব্যবহার করা হতো। তবে গত কয়েক মাস ধরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) দফায় দফায় অভিযান, জরিমানা এবং নানা পদক্ষেপের কারণে এ পরিবর্তন চোখে পড়ছে।
অনেকেই তাদের দোকান ও প্রতিষ্ঠানের নামফলক ও সাইনবোর্ড নিজ উদ্যোগে বাংলায় লিখে নিয়েছেন। রাজধানীর মিরপুর, ফার্মগেট, বনানী ও গুলশানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ যেসব এলাকায় ডিএনসিসি নামফলক ও সাইনবোর্ডে বাংলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করেছে সেসব এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন বাংলায় লেখা সাইনবোর্ড-নামফলক ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক, এফবিসিসিআই ও রিহ্যাবের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানকে তাদের নামফলক ও সাইনবোর্ড বাংলায় প্রতিস্থাপনের অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এফবিসিসিআই সভাপতি এবং রিহ্যাব সভাপতিকে আলাদাভাবে চিঠি দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণি। ডিএনসিসির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, হাইকোর্ট বিভাগের ১৬৯৬/২০১৪ নং রিট পিটিশনে প্রদত্ত আদেশ অনুযায়ী, সব প্রতিষ্ঠানের (দূতাবাস, বিদেশি সংস্থা ও তৎসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত) নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদি বাংলায় লেখা বাধ্যতামূলক।
স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে হাইকোর্টের আদেশটি ডিএনসিসি’র আওতাধীন এলাকায় যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ডিএনসিসি এলাকার যেসব প্রতিষ্ঠানের (দূতাবাস, বিদেশি সংস্থা ও তৎসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত) নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদি বাংলায় লেখা হয়নি সেসব স্ব-উদ্যোগে অবিলম্বে অপসারণ করে সাতদিনের মধ্যে বাংলায় লিখে প্রতিস্থাপনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

এছাড়া ব্যাপক মাইকিং ও গণমাধ্যমে প্রেস রিলিজ প্রেরণসহ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পাতায়ও গণবিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়। প্রায় সব প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের নামফলক ও সাইনবোর্ড স্ব-উদ্যোগে যথাযথভাবে বাংলায় লিখে প্রতিস্থাপন করে।

তবে হাইকোর্টের আদেশ ও গণবিজ্ঞপ্তি বাস্তবায়ন না করায় ডিএনসিসি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আর্থিক দণ্ডসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামফলক ও সাইনবোর্ড অপসারণ করে। ইতোমধ্যে ডিএনসিসির আওতাধীন এলাকায় সব ধরনের সাইনবোর্ড, লিফলেট ও ব্যানারে বাংলা লেখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইংরেজি থাকলেও সেটির পাশাপাশি বাংলা লেখা থাকতে হবে।
নিষেধাজ্ঞায় কাজ না হলে পরবর্তীতে সংস্থাটির অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানার পাশাপাশি বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে নির্দেশ প্রদান করা হবে। এতেও কাজ না হলে শেষ মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্তেও যেতে পারে ডিএনসিসি।

গুলশানের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, নামফলক ও সাইনবোর্ডে বাংলা নিশ্চিত করতে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে। জরিমানা করা হচ্ছে। তাই আমরা নিজ উদ্যোগেই সাইনবোর্ড বাংলায় করে নিয়েছি। এছাড়া অন্যান্য দোকানিরাও নিজ উদ্যোগে সাইনবোর্ড বাংলায় করে নিচ্ছেন।
মিরপুরের দোকানি মো. আফজাল বলেন, আমার দোকানের সাইনবোর্ড আগে ইংরেজিতে লেখা ছিল। ডিএনসিসির নির্দেশনায় পরে তা বাংলায় লিখিয়ে নেই। এখন দেখছি সাইনবোর্ড বাংলায় লেখাতেই ভালো দেখাচ্ছে।
‘সবাইকে সচেতন হয়ে সাইনবোর্ড-নামফলক বাংলায় লেখা উচিত’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রবীন্দ্র বড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের অভিযান ও জরিমানা অব্যাহত থাকায় অনেকেই সচেতন হচ্ছেন। আবার অনেকেই নিজ উদ্যোগে সাইনবোর্ড-নামফলক-ব্যানার ইতোমধ্যে বাংলায় করিয়ে নিয়েছেন। এখন অনেকটা পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি।’
‘সবাই সচেতন হলে এ পরিবর্তন আরও ব্যাপকভাবে হতে পারে’- যোগ করেন তিনি।