rehab

বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগ করার (অপ্রদর্শিত অর্থ) বিদ্যমান সুযোগ আগামী পাঁচ বছর বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন রিহ্যাব। আবাসন খাত চাঙ্গা করতে একই সঙ্গে আবাসন খাতের ফি ও কর বাবদ খরচ বর্তমানের চেয়ে অর্ধেক করার দাবি জানানো হয়। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) এনবিআরের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ দাবি জানিয়েছেন রিহ্যাব প্রতিনিধিরা।

এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এতে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় রাজস্ব বোর্ডের বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় রিহ্যাব নেতারা জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম গ্রহণের সুযোগ থাকায় দেশ থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ টাকা চলে যাচ্ছে। এ পাচার বন্ধ করতে হলে আবাসন খাতে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

তারা আরও বলেন, বর্তমানে এ সুযোগ থাকলেও এনবিআর, দুদকসহ বিভিন্ন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা এ খাতের বিনিয়োগের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করে। ফলে অনেকেই এ খাতে টাকা খাটাতে ভয় পান। রিহ্যাব মনে করে, কোনো প্রশ্ন ছাড়া যে কোনো পরিমাণ অঙ্ক বিনিয়োগের সুযোগ দিলে আবাসন খাত চাঙ্গা হবে।

বর্তমানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আবাসন ব্যয় বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন ফি ও কর বাবদ নিবন্ধন খরচ ১৪ শতাংশ। এ খরচ কমপক্ষে সাত শতাংশ কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে রিহ্যাব।

আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা বলেন, অত্যধিক ব্যয়ের কারণে ফ্ল্যাট ও প্লটের ক্রেতারা নিবন্ধনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এতে সরকার এ খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটকে কেন্দ্র করে এ দাবিসহ ১২ দফা দাবি জানিয়েছে রিহ্যাব।

গেইন ট্যাপ ১৫ থেকে কমিয়ে চার শতাংশ নির্ধাণের প্রস্তাব করেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। তারা মনে করেন, অত্যধিক গেইন ট্যাপ হওয়ায় অনেকেই প্রকৃত আয় দেখাতে উৎসাহী হন না। ফলে অনেক আয় অপ্রদর্শিত হয়ে যাওয়ায় সরকার রাজস্ব পায় না। আবার ওই টাকা অর্থনীতির মূল স্রোতেও আসে না। রিহ্যাবের অন্যান্য দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সিঙ্গেল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু, ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন, এ খাতের জন্য বিদ্যমান ভ্যাটের হার তিন শতাংশ থেকে দেড় শতাংশ করা, গৃহায়ন শিল্পের উদ্যোক্তাদের আয়কর কমানো, আবাসন খাতের ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর স্বার্থে হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনকে তহবিল প্রদান, আবাসন খাতে সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থা চালু করা ইত্যাদি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রিহ্যাবের সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভুঁইয়া বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আবাসন খাতে মন্দা যাচ্ছে। এ খাতকে চাঙ্গা করতে হলে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ কমপক্ষে পাঁচ বছর বহাল রাখতে হবে এবং বিনিয়োগে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। একই সঙ্গে এ খাতের খরচ অর্ধেক কমিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান রিহ্যাবের দেওয়া প্রস্তাবগুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিবেচনার আশ্বাস দেন। এনবিআর চেয়ারম্যান নিজেও স্বীকার করেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ না দিলে অর্থ পাচার হবে, দেশে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।