nahid

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, কারিগরি শিক্ষাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা হবে। এ শিক্ষার মাধ্যমে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

মঙ্গলবার ঢাকায় পরিবহন পুল ভবনে কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বে শতকরা ৬০ থেকে ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারিগরি ট্রেডে পড়াশোনা করে। আমাদের দেশেও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীর হার দ্রুত বাড়াতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে ভিশন ২০২১ অর্জন করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে জনপ্রিয় করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার যে লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, তা অর্জনের জন্য কারিগরি শিক্ষা বিস্তারের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল পুনর্গঠন করে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার কিন্তু কারিগরি শিক্ষা হলো অগ্রাধিকারের অগ্রাধিকার। আমাদের বিপুল পরিমাণ তরুণকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে যারা তরুণ, চিরকাল তারা তরুণ থাকবে না। এখনই তাদের দক্ষতার শিক্ষা দিতে হবে। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমেই তরুণদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা দেয়া সম্ভব। এরা দেশে-বিদেশে কাজ করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হবে। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে এসডিজি অর্জনে কারিগরি, বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতি উপজেলায় একটি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপন করা হচ্ছে। ২৩টি জেলায় বর্তমানে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নেই, সেসব জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। বিভাগীয় শহরে আরও চারটি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের এসব উদ্যোগ দেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দক্ষ জনশক্তিই পারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে।

কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।