siria

সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর গৌতায় রাসায়নিক হামলার জবাব দিতে দেশটির সরকারি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে বিশ্বনেতারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

কেউ কেউ মার্কিন মিত্রদের এ হামলাকে প্রয়োজনীয় এবং যথাযথ বলেছে। আবার কেউ কেউ মনে করছে, এটা ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে জঙ্গিদের পুনঃবিস্তার ঘটাবে।

গত সপ্তাহে সিরিয়ার পূর্ব গৌতায় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সর্বশেষ শহর দৌমায় রাসায়নিক হামলায় প্রায় ৭০ জন নিহত এবং পাঁচশতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এজন্য সিরিয়া সরকার ও তাদের মিত্র রাশিয়াকে দায়ী করে। যদিও উভয় দেশই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এ নিয়ে হুঁশিয়ারি ও পাল্টা হুঁশিয়ারির মধ্যেই শনিবার প্রথম প্রহরে সিরিয়ায় যুদ্ধজাহাজ ও জঙ্গিবিমান থেকে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে মার্কিন মিত্ররা।

জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল এ হামলায় সমর্থন দিয়ে বলেন, সিরিয়া সরকারকে ভবিষ্যতে আর কখনো রাসায়নিক হামলা না করার বিষয়ে সতর্ক করতে এ হামলা ‘প্রয়োজনীয় এবং যথাযথ’ কাজ হয়েছে।

তিনি বলেন, “জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে আমাদের মিত্র আমেরিকা, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে আমরা তার সমর্থন করছি।”

যদিও এ সপ্তাহেই মেরকেল তার দেশ সিরিয়ায় আর কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্য হামলায় অংশ নিলেও দেশটির বিরোধীদল লেবার পার্টি এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অংশ নেওয়ার আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র পার্লামেন্টের অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন লেবার নেতা জেরেমি করবিন।

যুদ্ধ বিরোধী এই নেতা বলেন, “বোম জীবন বাঁচাতে বা শান্তি ফেরাতে পারবে না। এই অভিযানের আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং এটা ভবিষ্যতে ঝুঁকি আরো বাড়াবে।

ওয়াশিংটনের নির্দেশ মেনে ব্রিটিশ সেনাদের বিপথে না নিয়ে যুক্তরাজ্যের উচিত সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির আলোচনায় এগিয়ে নেওয়া। প্রধানমন্ত্রীর মের উচিত ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুসরণ না করে পার্লামেন্টের অনুমতি নেওয়া।”

সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ‘সঠিক জবাব’ ছিল বলে মনে করে তুরস্ক।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সিরিয়া সরকারের উপর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে সঠিক জবাব বলে মনে করছি।”

মার্কিন মিত্রদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ-ক্লদ ইয়োঙ্কার সিরিয়া সরকারকে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ করতে বলেছেন।

তিনি বলেন, “বেসামরিক নাগরিকদের উপর সিরিয়া সরকারের রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার এটাই প্রথম নয়। তবে অবশ্যই এটা শেষ হওয়া উচিত।”

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন সিরিয়ায় হামলার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সিরিয়ায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করে চীন সমস্যা সমাধানে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, চীন বরাবরই যে কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কে শক্তি প্রয়োগের বিপক্ষে।

সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ‘অপরাধ’ বলে বর্ণনা করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, এর মাধ্যমে কোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “আজকের হামলা অপরাধ ছাড়া আর কিছু নয়। আমি পরিষ্কার ভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে অপরাধী বলছি।

এই হামলায় কোনো লাভ হবে না। যেমন অতীতে ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানে এ ধরনের অপরাধ করে তারা কোনো লাভ করতে পারেনি।”

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ জর্ডান বলেছে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক উপায়ে সিরিয়ার চলমান সংকটের অবসান সম্ভব।

দেশটির রাষ্ট্রায়াত্ত সংবাদমাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, “বর্তমান সংঘাত ভবিষ্যতে শুধুমাত্র আরও সংঘাতই ডেকে আনবে। সিরিয়ার সাধারণ মানুষকে যার শিকার হতে হবে।”

সিরিয়ায় মার্কিন মিত্রদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুধুমাত্র জঙ্গিদের ওই অঞ্চলে আরও বিস্তারলাভের সুযোগ করে দেবে বলে মনে করে ইরাক।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতি এ হামলাকে ‘একটি খুবই বিপদজনক অগ্রগতি’ বলে বর্ণনা করেছে।

“এ ধরণের অভিযানের পরিণতি ভয়ঙ্কর। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে এবং ইরাকি ও সিরীয় বাহিনী যে জঙ্গিদের কোণঠাসা করে ফেলেছে ‍তাদের আবারও বিস্তারলাভের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।”

ইরাক আরব নেতাদের এ হামলার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে সম্মেলন আয়োজন করার আহ্বান জানিয়েছে।