dhaka

তিনগুণ বেশি নাগরিক নিয়ে পরিচ্ছন্নতায় বিশ্ব রেকর্ড গড়ল ঢাকাবাসী। শুক্রবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) ১৫ হাজার ৩১৩ জন নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতীকী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে এ রেকর্ড গড়া হয়। একই সঙ্গে এসব নগরবাসীর অংশগ্রহণে ১ মিনিট রাস্তা ঝাড়ু দেয়া হয়।

২০১৭ সালে পাঁচ হাজার ৫৮ জন কর্মী নিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছিল ভারত। ভারতের গুজরাটে ২০১৭ সালের ২৮ মে বদোধারা শহরেরে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে এক কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করা হয়।
ডিএসসিসি আয়োজিত প্রতীকী পরিচ্ছন্ন কর্মসূচির এ রেকর্ড জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি উৎসর্গ করেছেন দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।

‘মন সুন্দর যার সে রাখে দেশ পরিষ্কার’-স্লোগানে গিনেস বুকে নতুন রেকর্ডের লক্ষ্যে শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৯টায় থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজার থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত এ পরিচ্ছন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
ডিএসসিসি আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে মেশিনের মাধ্যমে গণনা করা হয়। কর্মসূচিতে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার গেটে গণনা মেশিনের দায়িত্বে ছিল মোট ১০টি টিম। এছাড়া অডিট টিমের দায়িত্বে ছিলেন ৫০ জন। অডিট টিমের নেতৃত্ব দেয়া পিনাকী দাশ জানান, প্রতীকী এ পরিচ্ছন্ন কর্মসূচিতে ১৫ হাজার ৩১৩ জন অংশগ্রহণ করেন।

আতশবাজি ও গানের মধ্য দিয়ে এ রেকর্ড উদযাপন করা হয়। ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বচ্ছ ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে নগরবাসীকে সচেতন করতে এ প্রতীকী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন না হলেও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ঢাকা শহরের নাম গিনিস ওয়ার্ল্ড বুকে লেখা থাকবে।
ডিএসসিসি ও রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘ডেটল পরিচ্ছন্ন ঢাকা’ নামে এ প্রচার অভিযান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া এ কর্মসূচিতে সহায়তা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। কর্মসূচিতে জাতীয় স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ( বিএনসিসি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ফায়ার সার্ভিস, নৃত্যশিল্পী, চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে লোকজন অংশ নেন।

এছাড়া সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তাগির, সানজিদা খানম, প্রধান নির্বাচন কমিশন কে এম নুরুল হুদা, ডিএমমি কমিশনার, চিত্র নায়ক রিয়াজ, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বেলাল, ডিএনসিসির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ছেলে নাভিদুল হক বিশ্ব রেকর্ডের এ কর্মমূচি অংশগ্রহণ করেন।

জীবন ব্যবস্থায় পরিচ্ছন্নতা স্থাপন করায় নাগরবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, এ রেকর্ডের মধ্য দিয়ে বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেছি ঢাকাবাসী পরিষ্কার নাগরিক।