jam

মোড়ে মোড়ে জট, ঠোকাঠুকি। রাস্তায় যত্রতত্র এলোপাতাড়ি বাস, টেম্পু দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলার অসুস্থ প্রতিযোগিতা। ওভারটেকিং বা আগে যাওয়ার প্রবণতা। ট্রাফিক সিগন্যাল ও আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানো। অহেতুক ঘনঘন হর্ন দিয়ে শব্দদূষণ। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো কিংবা পঙ্গুত্ববরণ। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর, ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ চট্টগ্রামের গণপরিবহনগুলোর এ রকম বিশৃঙ্খলা এখন চরমে পৌঁছেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একটিই পথ বলে মনে করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। ‘কি সেই সমাধান?’ জানতে চাইলে মেয়র বলেন, আমি নিজে দেখেছি ব্যস্ততম সড়কের মোড়ে মোড়ে বাস, টেম্পুগুলো এলোপাতাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে। আড়াআড়ি, পেছনের দিক বাঁকা করে দিয়ে গণপরিবহনগুলো দাঁড়িয়ে থাকে। এসব গাড়ির চালকদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। কার আগে কে যাবে, কার চেয়ে কে বেশি যাত্রী তুলবে সারাক্ষণ এ চিন্তাই তাদের। এখন সব গাড়ি যদি এক ছাতার নিচে আনা যায়, একেকটি রুটের সব মালিককে একেকটি কোম্পানির বা ম্যানেজমেন্টের অধীনে আনা যায়, নির্দিষ্ট সময় পর পর সব গাড়ি চলে, দিনশেষে যে লাভ হবে সব মালিককে গাড়িপ্রতি সমভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয়, তবেই মিলবে এই নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে মুক্তি।

তিনি বলেন, কাজটা খুবই সহজ। আবার খুবই কঠিনও। সহজ এ জন্যই যে, একেকটি রুটের অনুমোদিত সব গাড়ি একই ব্যবস্থাপনায় চলবে। এটি হতে পারে কোম্পানির মতো, হতে পারে সমিতির হাতে। নির্দিষ্ট সময় পরপর গাড়ি ছাড়বে। যাত্রীরা তাড়া থাকলে দাঁড়িয়ে যাবে। নয়তো পরের আসনের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করবে। তাহলে চালক-সহযোগীর মধ্যে বেশি যাত্রী তোলার অসুস্থ প্রতিযোগিতা থাকবে না। আবার একই রুটের নিয়মিত যাত্রীরা মাস হিসেবে ভাড়াও পরিশোধ করতে পারবেন।

কঠিনের ব্যাখ্যা দিয়ে মেয়র বলেন, গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক-যাত্রী সবাই একবাক্যে স্বীকার করবেন বিশৃঙ্খলা চলছে। কিন্তু যারা এ বিশৃঙ্খলার সুযোগে ফায়দা লুটছে, তারাই কিন্তু একীভূত করার কাজে বাধা দেবে। নানাভাবে তারা চেষ্টা করবে উদ্যোগটা যাতে আলোর মুখ না দেখে।