regal

বাঙালি সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় উৎসব পয়লা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাহারি পণ্য নিয়ে সেজেছে পাঁচ দিনব্যাপী ‘জাতীয় এসএমই মেলা’। গ্রামবাংলার নকশা করা পোশাক, ঐতিহ্যবাহী পিঠাসহ নানা খাবার, শিশুদের খেলনা, ঘর-গৃহস্থালির নিত্যব্যবহার্য পণ্য, প্রসাধনী এবং গয়নাও পাওয়া যাচ্ছে এ মেলায়। ক্রেতা-দশনার্থীদের আকর্ষণে রয়েছে বিশেষ মূল্য ছাড়।

মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের (এসএমই) শিল্প উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার ও প্রসার বাড়াতে এ মেলায় আয়োজন করা হয়েছে। ৬ষ্ঠ বারের মতো এ এসএমই মেলা যৌথভাবে আয়োজন করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।
৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম চলবে। মেলায় সারাদেশ থেকে ২৭৪টি এসএমই উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এবারের বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে, কোনো বিদেশি পণ্য এ মেলায় প্রদর্শন কিংবা বিক্রয় করা হচ্ছে না।

মেলায় স্টলগুলোতে দেশীয় নতুন ডিজাইনের পোশাক, জুতা, চামড়াজাত পণ্য, তৈজসপত্র, পাটপণ্য, ডিজাইন ও ফ্যাশনওয়্যার, হ্যান্ডিক্রাফটস, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্য, প্লাস্টিক ও সিনথেটিকস, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য, হালকা প্রকৌশল পণ্যসহ অন্যান্য খাতের পণ্য প্রদর্শন করছে।
বৃহস্পতিবার মেলা ঘুরে দেখা গেছে, বাহারি সব পণ্য সাজিয়েছেন উদ্যোক্তারা। গ্রামবাংলার সব আধুনিক পোশাকের সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পিঠাসহ নানা রকম খাবার। পুরো এসএমই মেলায় যেন বৈশাখী আমেজ।

মেলায় অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দর্শনার্থীদের আকর্ষণে নতুন নতুন পণ্য নিয়ে এসেছেন উদ্যোক্তারা। ক্রেতা আকর্ষণে নগদ ছাড় দিচ্ছেন তারা। প্রথম দুদিন দর্শনার্থী কম থাকলেও শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন ক্রেতা বাড়বে আশা করছেন বিক্রেতারা।

মেলায় অংশ নেয়া ইলোরা বিউটি পার্লার অ্যান্ড বুটিকস হাউজের সত্ত্বাধিকারী সাবরিনা ইসলাম বলেন, ‘আসছে পহেলা বৈশাখ। তাই আমাদের বেশিরভাগ পণ্য বৈশাখকে কেন্দ্র করেই তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন শাড়ি, থ্রিপিস, জামা বিক্রি করছি। ১৮শ থেকে ৯ হাজার টাকায় শাড়ি বিক্রি করছি। এছাড়া ১৫শ থেকে ৫ হাজার টাকায় থ্রিপিস বিক্রি করছি। বৈশাখের পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে। শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন বেশি দশনার্থী আসবে, বিক্রিও ভাল হবে’।

এদিকে অপর একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক সুফিয়া খাতুন বলেন, ‘বৈশাখকে সামনে রেখে আমাদের নিজেদের তৈরি বেশকিছু ফতুয়া, পাঞ্জাবি এনেছি। দামও কম। ৭০০ থেকে ১২শ টাকায় পাঞ্জাবি ও ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় ফতুয়া বিক্রি করছি। এছাড়া বাচ্চাদের ফতুয়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায়। যা মেলার বাইরে শো-রুম থেকে কিনতে গেলে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি লাগবে’।
তিনি আরও বলেন, ‘এসব পণ্য ছাড়াও নকশীকাঁথা আছে, দাম পরবে ৫ হাজার টাকা। বিভিন্ন হাতের কাজ করা শাড়ি ৬ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে’।

এছাড়াও মেলায় চিত্রা অর্গানিকের কৃষিবাজারে রয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নব পণ্য। নানান ধরণের চাল, ডাল, চিড়া, মুড়ি, খৈ, তেল বিক্রি করছে তারা। যা ক্ষতিকর রাসয়নিক ছাড়াই উৎপাদন করা বলে দাবি করছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক শাহজাহান শাহীন।

মেলায় আসা আয়শা বেগম নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘মেলায় এসেছি পছন্দসই পোশাক কিনতে। ছেলের জন্য একটি ফতুয়া কিনেছি। এছাড়াও শাড়ি দেখছি পছন্দ হলে কিনব। কেমন দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাম তো বেশিই। তবে শো-রুমের তুলনায় একটু কম’।