kamal

অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থ যারা লুটে নিচ্ছে, তাদের ছাড় দিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অবমাননা করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীতে শনিবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “উনার (বঙ্গবন্ধুর) আদেশ, এই দেশে দুর্নীতি হবে না। অনুপার্জিত আয় থাকবে না। অনুপার্জিত আয় বা ঘুষ খেয়ে যারা মোটা হতেন বঙ্গবন্ধু তাদের ভুড়ি মোটা বলতেন।”

তবে এখন বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ‘লুটে নেওয়া’ হলেও তাদের ধরা হচ্ছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু যাদের দেশের মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, সেই জনগণকে মালিক হিসেবে তিনি দায়িত্বও দিয়ে গেছেন। তাহলে এগুলো (জাতীয় সম্পদ-ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার) যারা করছে, তাদের মেনে নিয়ে আমরা জয় জয় করব? জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ করব? এটা করা কি বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করা হচ্ছে না? বঙ্গবন্ধুর কথাকে পুরো অমান্য করা হচ্ছে না? উনি কী আদেশ দিয়েছেন, কী দায়িত্ব দিয়েছেন তা আজ উনার জন্ম দিবসে পালন করতে পেরেছি?

“বঙ্গবন্ধুকে এই অপমানের হাত থেকে বাঁচানো আমাদের কর্তব্য। ১৬ কোটি মানুষের পবিত্র কর্তব্য হল বঙ্গবন্ধুকে এই অবমাননা থেকে রক্ষা করা। যারা উনার আদেশ অবমাননা করছেন, জাতীয় সম্পদ লুটপাট করছেন, তাদের কাঠগড়ায় নিয়ে দাঁড় করাতে হবে।”

লুটেরাদের মুক্ত করে দিলে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে তার প্রতি অবমাননা করা হবে বলে মন্তব্য করেন কামাল হোসেন।

ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আপনার পিতা আপনাকে কোনো বাড়ি দিয়ে গেলে সে বাড়ি যদি মাস্তানরা এসে দখল করে নেয়, আর আপনি যদি সরে যান যে, মাস্তানদের সঙ্গে আপনি কেমনে লড়াই করবেন, তাতে কি আপনার পিতার অবমাননা করা হবে না?”

প্রেরণার উৎস হিসেবে বঙ্গবন্ধু চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন মন্তব্য করে কামাল হোসেন বলেন, “এই প্রেরণার ভিত্তিতে সব সময় আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করেছি। এখন যদি তারা (লুটপাটকারীরা) মনে করে, হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে আমাদের সবাইকে তারা দাস করে রাখবে, তাহলে তারা তা পারবে না, পারবে না, পারবে না। আমরা আছি, থাকব। দেশের সম্পদকে আমরা রক্ষা করব। এই চোরদের হাত থেকে আমরা অবশ্যই দেশকে মুক্ত করব।”
এখন বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙিয়ে ‘আওয়ামী লীগ করা হচ্ছে’ অভিযোগ করে কামাল হোসেন বলেন, “আমরাতো সারা জীবন বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করেছি। আমি এখনও বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগে আছি বলে বিশ্বাস করি। এখন দেশে নাম ভাঙিয়ে আওয়ামী লীগ করা হচ্ছে। এটাকে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ বলার অর্থ হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করা।”

“উনার জন্মদিনে বলছি, বঙ্গবন্ধু আপনিতো জীবন দিয়ে গেলেন। এরকম দুই নম্বরির সঙ্গে আপস করলে তাকে জীবন দিতে হত? উনার সহকর্মীদের জীবন দিতে হত?

“সেই রাজনীতিই উনারা করেছিলেন, জীবন বাজি রেখে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে জনগণের সঙ্গে তরা বেঈমানি করেননি।”

লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে জনগণ জোটবদ্ধ হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “মানুষ কীভাবে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে জাতীয় সম্পদ আত্মসাতের বিরুদ্ধে! এইটাই ষাটের দশকে হয়েছিল। জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করা হচ্ছিল, তারা (তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক) টিকতে পারেনি। আমি মনে করি, যদি কেউ বাংলা ভাষা বলে একই কাজ করে, কেউ যদি মনে করে সব কিছু লুটপাট করে বাংলা ভাষায় কবিতা লিখব, তাহলে মানুষ তাকে ক্ষমা করে দেবে না।এটি সত্য প্রমাণ হয়েছে।

“কিন্তু আমি জানি, বঙ্গবন্ধু যন্ত্রণা ভোগ করছেন এটি দেখে যে, এই দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে, পাচার করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর কথা যদি রক্ষা করতে হয় তাহলে এটি বন্ধ করতে হবে। এটা অনস্বীকার্য যে, মানুষ অন্তর থেকে জাতির পিতার জন্মদিন উদযাপন করছেন। কিন্তু এই দাবিগুলো কার্যকর করা হল আমাদের দায়িত্ব।”

বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল হোসেন।

‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’র ব্যানারে আইনজীবীদের সঙ্গে কামাল হোসেনের মতবিনিময়ের এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, আইনজীবী জগলুল হায়দার আফ্রিক, মাহতাবুল বাসার, মোশারফ হোসেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন প্রমুখ।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহ খসরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে আইনজীবীদের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অন্যায়, লুটপাটের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ায় আইনজীবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।