mash

তিনি আজ দলে নেই। হাথুরুসিংহের সাজানো নকশায় এখন টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দলের বাইরে চলে এসেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ১১ মাস আগে এই কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দেশের ক্রিকেটের সফলতম সেনাপতি। সে ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল ৪৫ রানে।

এবার তাকে ফেরানোর চেষ্টা হয়েছিল। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন নিজে অনুরোধ করেছিলেন। বসে কথাও বলেছেন; কিন্তু অভিমানি মাশরাফি ফেরেননি। দলে না ফিরলেও সহযোগীদের পারফরমেন্স আর প্রিয় জাতীয় দলের খেলা পাখির চোখে পরখ করছেন মাশরাফি। দলকে অনুপ্রাণিতও করছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলকে উজ্জীবিত করতে স্ট্যাটাস দিয়ে দলকে করছেন অনুপ্রাণিত। মাশরাফি আশার প্রহর গুণছেন, তার ছোট ভাইরা ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরবে।

আজ শেরে বাংলায় উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কথা-বার্তায় মাশরাফিকে বেশ আশাবাদীই মনে হলো। তার শরীরি অভিব্যক্তি ও কথা-বার্তায় পরিষ্কার, তিনি বিশ্বাস করেন- ভারতের এই দলটিকে হারানোর ক্ষমতা আছে টাইগারদের।

মাশরাফির কথায় একটা বার্তা পরিষ্কার, ভারতীয়দের হারাতে খুব আহামরি ও অস্বাভাবিকরকম ভাল খেলা জরুরি নয়। রোহিত শর্মা, শিখ ধাওয়ান আর ইউযবেন্দ্র চাহাল ও ওয়াশিংটন সুন্দরকে যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তাহলেই জেতা সম্ভব।

নতুন করে আর বলার দরকার নেই নিদাহাস ট্রফিতে ভারতের হয়ে কারা খেলছেন আর কারা খেলছেন না। তবে এটা সত্য যে, রোহিত শর্মার নেতৃত্বে দলটি খেলছে, সেটাও বেশ শক্তিশালী। তার প্রমান- ৬ মার্চ প্রথম দিন স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে গিয়েও পরের তিন ম্যাচ টানা জিতে সবার আগে বিনা বাধায় ফাইনালে ভারতীয়রা।

আগামীকাল ফাইনালে সেই ভারতের সাথে পেরে উঠবে তো বাংলাদেশ? নাকি রাউন্ড রবিন লিগের মত শেষ হাসি হাসবে ভারতীয়রাই? এমন প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। বাংলাদেশের ভক্ত ও সমর্থকরা মুশফিকুর রহীম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দিকে তাকিয়ে। তাদের আশা- এ দুই ভায়রা ভাই লঙ্কানদের বিপক্ষে যেভাবে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠে দল জিতিয়েছেন, এবারও তেমন কিছু করে দেখাতে পারবেন।

স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২১৪ রানের হিমালয় সমান স্কোর টপকে রেকর্ড জয় ধরা দিয়েছে মুশফিকুর রহিমের ৩৫ বলে খেলা অপরাজিত ৭২ রানের উত্তাল ইনিংসে। আর কাল শুক্রবার সেই লঙ্কানদের বিরুদ্ধে মাহমুদউল্লাহর ১৮ বলে করা ৪৩ রানের বীরোচিত ইনিংসে ২ উইকেটের অতি নাটকীয় জয়ের দেখা মিলেছে।

কিন্তু ভারতের বিপক্ষে দুই পর্বের একটিতেও জেতা সম্ভব হয়নি। ৮ মার্চ প্রথম দিন দাঁড়াতেই পারেনি মাহমুদউল্লাহর দল। আর ১২ মার্চ পরের ম্যাচে প্রায় সেয়ানে সেয়ানে লড়েও শেষ পর্যন্ত আর কুলিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। রাউন্ড রবিন লিগের শেষ ম্যাচে মুশফিকুর রহীমের ৭২ রানের হার না মানা ইনিংসেও কাজ হয়নি। প্রমাণ হয়েছে, কারো একার লড়াইয়ে ভারতীয়দের হারানো সম্ভব নয়।

তাহলে ফাইনালে কি করলে জিততে পারে বাংলাদেশ? সমর্থকদের মনে ঘুরে-ফিরে একটাই প্রশ্ন। দেশের ক্রিকেটের সফলতম সেনাপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা কালকের ফাইনালে ছোট ভাইদেরকে ভাল খেলার একটা অঘোষিত ফর্মুলা বাতলে দিয়েছেন।

ভারতীয়দের সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী দল মানলেও মাশরাফি মনে করেন, রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, চাহাল ও ওয়াশিংটন সুন্দর- মূলতঃ এই চার জনের ওপরই নিদাহাস ট্রফির ভারতীয় দল নির্ভরশীল। সেই চারজনের ওপরই ব্যাটিং ও বোলিং সাফল্যের ওপর পুরো দলের সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ভর করছে। তাদের ঠিকমত সামলাতে পারলে জেতা সম্ভব।

মাশরাফির মূল্যায়ন, ভারতের ব্যাটিং মূলতঃ রোহিত শর্মা আর শিখর ধাওয়ান কেন্দ্রিক। তারা জ্বলে উঠলেই ভারতীয় ব্যাটিং হয়ে উঠছে দূর্বার। তাই এই দুজনকে যতটা কম সময় ও সংগ্রহে ফিরিয়ে দেয়ার জোর তাগিদ মাশরাফির কন্ঠে।

তার কথা, ‘দলের সাথে যারা কোচ আছেন, সিনিয়র প্লেয়ার আছেন- সবাই একটা প্ল্যান নিশ্চয়ই করবে। তবে আমার কাছে মনে হয় রোহিত শর্মা এবং শিখর ধাওয়ানকে কম সময় ও রানে আউট করতে পারলে আমাদের ভাল সুযোগ থাকবে। ওই দুজনার উইকেট যদি আমরা তাড়াতাড়ি নিতে পারি। তাহলে ম্যাচটা আমাদের হাতে থাকবে।’

এর পাশাপাশি লেগ স্পিনার চাহাল ও মিডিয়াম পেসার ওয়াশিংটন সুন্দরকে ঠিকমত খেলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন মাশরাফি। তার ব্যাখ্যা, ‘চাহাল ও ওয়াশিংটনকে ঠিকভাবে খেলতে হবে। ওই দুই স্পিনারকে আমাদের ব্যাটসম্যানরা কেমন সামলায় ও কিভাবে মোকাবিলা করে, সেটাও ফলের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।’

মাশরাফির শেষ পরামর্শ, ‘এই চারজন প্লেয়ার নিয়ে পরিকল্পনা করলে ম্যাচটা আমাদের দিকে আসতে পারে।’