Police Constable

কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশের মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কর্তব্যরত অবস্থায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে তা কর্তব্যে অবহেলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

গত ৭মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভা চলাকালে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের মোবাইল ফোন নিয়ে ঢিলেঢালা মেজাজে থাকার ছবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আইজিপির এই নির্দেশনা এল।

ওইদিন বাংলামোটরে মোড়ে সাতই মার্চের মিছিলের মধ্যে এক কলেজছাত্রী যৌন নিপিড়ীনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করার পর থেকে সমালোচনা চলছে।

এর আগে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি মঞ্চে প্রকাশ্যে এক অনুষ্ঠানে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই ‘উগ্র ভাবাপন্ন’ এক মাদ্রাসা ছাত্রের ছুরি হামলার শিকার হন অধ্যাপক ‍মুহম্মদ জাফর ইকবাল। ওই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে শনিবার দেওয়া ওই নির্দেশনায় বলা হয়, “দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পুলিশ সদস্য কর্তৃক মোবাইল ফোনের ব্যবহার যথাযতভাবে দায়িত্বপালনকে ব্যাহত করার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তি নিরাপত্তাসহ নিজ নামে ইস্যুকৃত অস্ত্র-গুলি ও অন্যান্য সরকারি সম্পদের যথাযথ নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে যা কোনভাবেই কাম্য নয়।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সহেলী ফেরদৌস বলেন, “এসব বিধি নিষেধের বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দায়িত্বপালনকালে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো পুলিশ সদস্য যেন মোবাইল ফোন ব্যবহার না করেন। পাশাপাশি সেলফি তোলা, ছবি তোলাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা পোস্ট করা, গেইমস খেলা, ভিডিও দেখা, গান শোনা, ইউটিউব, ফেইসবুক, অনলাইন পত্রিকা, নিউজপোর্টাল দেখা বা পড়া যাবে না।

পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোন কোন পুলিশ সদস্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন, তার নামের পাশে মোবাইল নম্বর লিপিবদ্ধ করতে হবে।

“ভবিষ্যতে ডিউটিতে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যগণ (অনুমোদিত পুলিশ সদস্য ব্যতীত) কর্তৃক মোবাইল ফোন ব্যবহার দৃষ্টিগোচর হলে তা কর্তব্যে অবহেলা হিসাবে গণ্য হবে।”