media

‘কুসংবাদ বাতাসের আগে ধায়’-বাংলায় এই প্রবাদ বহু পুরানো। হালের আলোচিত বিষয় ‘ভুয়া সংবাদ’-এর বেলায়ও এই প্রবাদ মিলে যাবে তা হয়তো কেউ ভাবেননি আগে। কিন্তু নতুন গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে ১১ বছরে ছড়ানো ১,২৬,০০০ গুজব আর ভুয়া সংবাদ নিয়ে করা এক গবেষণায় জানা যায়, ভুয়া সংবাদ অনেক বেশি দ্রুত ছড়ায় আর সত্য সংবাদের তুলনায় অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’র গবেষকরা বলেছেন, বট নয় বরং কোনো মানুষ কোনো ভুয়া সংবাদ রিটুইট করেছেন- এমন ঘটনা বেশি প্রচলিত। কিন্তু এর কারণ কী? গবেষকদের মতে, ভুয়া সংবাদ ‘বেশি অভিনব’ হওয়ার একটি রীতি আছে।

ভুয়া সংবাদ ছড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রচলিত বিষয় হচ্ছে মিথ্যা রাজনৈতিক সংবাদ, বলা হয়েছে বিবিসি’র প্রতিবেদনে। এ ছাড়াও অন্যান্য জনপ্রিয় বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- শহুরে কিংবদন্তী, ব্যবসায়, সন্ত্রাস, বিজ্ঞান, বিনোদন আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

গবেষণার জন্য টুইটারই ডেটা সরবরাহ করেছে। গবেষকদের একজন অধ্যাপক সিনান অ্যারাল বলেন, “মিথ্যা সংবাদ বেশি অভিনব, আর মানুষ অভিনব তথ্য বেশি শেয়ার করে থাকে।” এ ছাড়াও মিথ্যা সংবাদ সত্য সংবাদের তুলনায় বেশি অবাক করা হয় বলে এগুলো বেশি ছড়ায়, এমন কারণও জানিয়েছেন গবেষকরা।

২০১৩ সালের বস্টন ম্যারাথন বম্বিংয়ের পর অধ্যাপক অ্যারাল, সোরাশ ভোসোউঘি আর সহযোগী অধ্যাপক দেব রয় এই গবেষণা শুরু করেন। ভোসোউঘি বলেন, “টুইটার আমাদের কাছে প্রধান সংবাদ উৎস হয়ে গিয়েছে। আমি এটি বুঝতে পেরেছিলাম যে … সামাজিক মাধ্যমে আমি যা পড়ছি তার বড় একটি অংশ গুজব; মিথ্যা সংবাদ।”

সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় আরও জানা যায়, মিথ্যা সংবাদ প্রতিবেদনগুলো সত্য প্রতিবেদনগুলোর তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশিবার রিটুইট করা হয়।

সত্য সংবাদগুলো দেড় হাজার মানুষের কাছে পৌঁছাতে মিথ্যা সংবাদের তুলনায় ছয়গুণ বেশি সময় লাগে।

এক হাজারের বেশি মানুষ ছাড়িয়ে যাওয়ার নজির সত্য সংবাদের ক্ষেত্রে কম, কিন্তু সবচেয়ে জনপ্রিয় মিথ্যা সংবাদ এক লাখ পর্যন্ত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।