alig

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হওয়ায় ক্ষমতাসীন দলটির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত, উচ্ছ্বসিত। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্যে কর্মীদের আরও চাঙ্গা করেছে বলে বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনসভায় চাহিদা মত জনতার উপস্থিতিতে দলের হাইকমান্ডও খুশি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের স্মৃতি বিজড়িত ৭ মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত জনসভাকে সফল করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। শান্তিপূর্ণভাবে বর্নাঢ্য জনসভা শেষ হওয়ায় তিনিও খুশি।
জনসভা শেষে বৃহস্পতিবার রাতে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা গ্রুপে গ্রুপে আলোচনা করছিলেন। সবার মুখেই ছিল হাসি। প্রায় প্রতিটি আলোচনার বিষয়বস্তুই ছিল ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা কেন্দ্র করে।

তারা বলছিলেন, জনসভায় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছেন। অনেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রশংসা করছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘরে ঘরে যাওয়া ও সরকারের ৯ বছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধারা, জামায়াত-বিএনপি সম্পর্কে সতর্ক থাকা, তাদের বিগত দিনে আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়িয়ে মারা, দেশের সম্পদ ধ্বংস করাসহ তাদের নানা অপকর্মও তুলে ধরার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ সভাপতির এসব দিক নির্দেশনা তাদের ভালো লেগেছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হেসেন শফিক বলেন, এ ধরনের সফল একটি জনসভা ও বঙ্গবন্ধুর ভাষণের যে স্বীকৃতি তাতে অবশ্যই দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছে, চাঙ্গা করেছে। ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের মানব সভ্যতার একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, বাঙালি জাতির জন্য এটা অনেক বড় একটি পাওনা। এ ভাষণ সারা বিশ্বের বিভিন্ন সংকলন ও প্রকাশনায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে বাংলাদেশের সকল জনগণের সংগ্রামী চেতনাকে গৌরবান্বিত করেছে।

হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শফিকুর রহমান আফু বলেন, সফল জনসভা হয়েছে। বিশাল জনসভায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা খুব খুশি। নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে চাঙ্গা ভাব চলে এসেছে। সামনে নির্বাচন নেতারা চাঙ্গা না হলে কাজ করতে পারবে না।

জনসভা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জনসভায় লক্ষ লক্ষ জনতার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে যেন ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনা আবারও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ফিরে এসেছে। জনসভা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। জনসভায় আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

তিনি আরও বলেন, প্রচন্ড গরম এবং নানা কষ্ট শিকার করে এই বিশাল জনসভার সঙ্গে একাত্ম হতে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের সকলকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। জনসভায় লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন ও আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছে।