ahsan khan

এহছান খান:
আপনার সন্তানকে একটি সুস্থ পরিবেশে গড়ে তুলুন। বাবা এবং মাকে একে অপরের প্রতি অশ্রদ্ধাপুর্ণ আচরণ করতে দেখলে আর যা-ই হোক আপনার সন্তান কোন দিনই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সহনশীল কিংবা শ্রদ্ধাশীল হয়ে উঠতে পারবে না। কাজেই নারী পুরুষ পরস্পর সহনশীল, শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক ভিত্তিক একটি লিঙ্গ বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়তে হলে তার গোড়পত্তনটি কিন্তু আপনার ঘর থেকেই হতে হবে।

যে ছেলে সন্তানটি ছোটবেলা থেকেই তার বিপরীতলিঙ্গের প্রতি এই মনোভাব নিয়ে বড় হচ্ছে যে মেয়েরা আহ্লাদি, দুর্বল, ওরা কিছুই পারেনা শুধু কান্নাকাটি করে, তারা বড় হলেও যে এই ধারণা থেকে খুব একটা সরে আসতে পারে তা কিন্তু নয়। ছোটবেলায় গড়ে ওঠা এমন ধারণাই কিন্তু বড় হলে তার কোন নারীর মেধা কিংবা অর্জনের প্রতি অবজ্ঞার সুচনা ঘটায়।
আবার ছোটবেলা থেকেই অনেক মেয়ের মাথায় এই ধারণাটিই বদ্ধমুল থাকে যে ছেলে মানেই প্রতিপক্ষ, হায়েনা সদৃশ্য কোন প্রাণি। হয়তো পরিবার বা পারিপার্শ্বকতা থেকেই এই ধারনা তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়। ফলাফলে ছেলেদের প্রতি তারা কখনোই সহজ হতে পারেনা, বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক তো দুরে থাক। তাদের এ ধরণের মনোভাব এখন বড় কোন সমস্যা তৈরি না করলেও অদূর ভবিষ্যতে সুস্থ্য দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবেনা- তা কে বলতে পারে?
এই যে ছেলেটি কিংবা মেয়েটি বিপরীত লিঙ্গের প্রতি বিরুপ কিংবা এলিয়েন সুচক ধারণা নিয়ে বড় হচ্ছে- দিন শেষে এর পরিণাম হচ্ছে লিঙ্গ বৈষম্য, নারী নির্যাতন, এবং আরো কিছু অসুস্থ সম্পর্ক।

যেহেতু এই সমাজে নারীদের অবস্থানটি যথেষ্ঠই নাজুক এবং নারীদের প্রতি সংঘটিত ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স, ধর্ষন, ইভটিজিং এর ক্ষেত্রে বিপরীত লিঙ্গের মুখ্য ভুমিকা থাকে তাই কন্যা শিশুর অভিভাবকদের চেয়ে একজন পুত্র সন্তানের অভিভাবকদের সচেতন হওয়া বেশি জরুরী। আপনার পুত্র সন্তানটির মাঝে নারীদের প্রতি সম্মানবোধ জাগানো কিন্তু আপনারই কর্তব্য। তার মা, তার বোনও যে একজন নারী এবং তার সহপাঠিনীও যে তাদের মতই একজন, অন্য গ্রহের কোন প্রাণি নয় এই বোধটি তার মাঝে জাগ্রত করুন।
আবার পুরুষ মানেই শোষক শ্রেণী, অত্যাচারি, প্রতিপক্ষ এমন ধারণা কখনোই আপনার কন্যা সন্তানের মাঝে তৈরি হতে দিবেন না। যদি কোন তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে তার এমন ধারণা জন্মায় তবে তাকে সেই ট্রমা থেকে বের করে নিয়ে আসুন। এই পৃথিবীতে যেমন খারাপ মানুষ আছে, ভাল মানুষও আছে বিস্তর- এটি তাকে বোঝান। পুরুষ জাতির প্রতি নেগেটিভ ধারনা নিয়ে আপনার কন্যা সন্তানটি যেন বড় না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখুন।

এহছান খান, বার্তা সম্পাদক
দৈনিক অর্থনীতির কাগজ