jam

পরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল রাখতে চওড়া রাস্তা, গণপরিবহন, ট্রাফিক আইনসহ সব বন্দোবস্তই আছে তবুও রাজধানীতে পরিবহন সেক্টরে নেই কোনো শৃঙ্খলা। দিনে দিনে শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থা হয়ে উঠছে আরো নাজুক।

সময়ের পালাবদলে ঢাকা শহরে পরিবহন ও রাস্তার সংখ্যা বাড়লেও হয়নি যানজট সমস্যার সমাধান। সুষ্ঠু একটি পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় রাজধানীর বাসিন্দারা প্রতিদিন পড়ছেন সীমাহীন ভোগান্তিতে।

সম্প্রতি ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থা ও যানজট নিয়ে বিশ্বব্যাংকের এক রিপোর্টে দেখা গেছে, যানজটের কারণে প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে ঢাকার বাসিন্দাদের। সেই হিসেবে বছরে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১১ দশমিক চার বিলিয়ন ডলার! যা দেশের মোট জিডিপির ৭ শতাংশের সমান।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, গণহারে যানবাহন চলাচলের রাস্তা ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখলের মহোৎসব চলছে রাজধানীতে। এয়ারপোর্ট থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত ভিআইপি সড়কটি দখলমুক্ত থাকলেও রাজধানীর বাকি সব রাস্তার কোথাও না কোথাও অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে। এর ফলে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়ছেন রাজধানীবাসী।

যথাযথ ট্রাফিক আইন ও রাস্তার শৃঙ্খলাবিধি চালক ও জনসাধারণ না মানায় পরিবহন ব্যবস্থাকে অরাজক পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে। যত্রতত্র অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং ও ভিআইপিদের আইন না মানার প্রবণতা শহরে যানজট সৃষ্টির জন্য কোনো অংশে কম দায়ী নয়।

রাজধানীর পরিবহন সেক্টরের ভোগান্তির অন্যতম কারণ- সিটিংয়ের নামে ‘চিটিং সার্ভিস’। লোকাল বাসের সার্ভিস নিয়ে গলাকাটা ভাড়া গুণতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা।

শৃঙ্খলাহীন অকার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে কথা হয় রাজধানীর বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে। বাংলানিউজকে তারা বলেন, এই শহরে রাস্তায় নামা বা গাড়িতে ওঠা মানেই যেন অগ্নিপরীক্ষা! যাতায়াতে সীমাহীন ভোগান্তি দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। অসহনীয় পর্যায়ে এ অবস্থা চলে গেলেও কার্যত কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ সরকার নিতে পারছে না বলেও তারা অভিযোগ করেন।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মিরপুরের বাসিন্দা আতাউর রহমান করেন রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, আমি প্রতিদিন অফিস করতে মিরপুর-১০ নম্বর থেকে মতিঝিলগামী বাসে উঠি। কিন্তু অনেক দিন দেখা যায় মিরপুর-১০ নম্বর থেকে ২ ঘণ্টায়ও মতিঝিল যাওয়া যায় না। তবে সব থেকে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ফেরার পথে; সন্ধ্যা ৬টায় বাসে উঠেও রাত ১০টায় বাসা আসতে পারি না!
আতাউর রহমানের মতোই ভোগান্তি পোহাতে হয় ব্যবসায়ী আমিনুলকেও। তিনি বলেন, এই শহরের অধিকাংশ বাসিন্দা ট্রাফিক জ্যামে আটকে জীবনের সব থেকে বেশি সময় ব্যয় করছেন! এই ভয়াবহ যানজটের কারণে পরিবার পরিজন ও বন্ধুবান্ধবদের সময় দিতে পারছি না। আমাদের জীবন রাস্তায় শেষ হয়ে যাচ্ছে!

গত এক বছরে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজধানীতে বেড়েছে যানবাহনের সংখ্যা, সেই সঙ্গে ভোগান্তি বেড়েছে আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে ১০ মিনিটের রাস্তা পার হতে ঘণ্টাখানেকও পেরিয়ে যাচ্ছে।
যানজট নিয়ে ওয়েলকাম পরিবহনের একটি বাসের চালক উজ্জ্বল বলেন, সকাল ও সন্ধ্যা এই দুই সময় যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী এই শহরে। গত কয়েক মাসে সীমাহীনভাবে বেড়েছে যানজট ও ভোগান্তি।