south-africa-v-india-

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, সিরিজের শেষ, তথা ষষ্ঠ ওয়ানডে-তে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ওভার কমে গিয়ে আবারও জোহানেসবার্গের মতো অবস্থা হতে পারে। সুতরাং, তখন ভারতীয় স্পিনাররা হয়ে পড়বেন অকার্যকর। কারণ বল গ্রিপ করার ক্ষেত্রে সমস্যা হবে।

শেষ ম্যাচের জন্য আর অপেক্ষা করতে রাজি নয় বিরাট কোহলি অ্যান্ড কোং। আবহাওয়ার বিষয়টা মাথায় রেখেই আজ বিকেলে পোর্ট এলিজাবেথে ঝুঁকির রাস্তায় যেতে চাইছে না ভারতীয় দল। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটি থেকে এই প্রথম সিরিজ জয়ের স্বাদ নেয়ার দারুণ সুযোগ। অতীতে কোনও সিরিজ জেতা দূরের কথা, তিন ম্যাচও টানা ওয়ানডেতে জেতেনি কোনো ভারতীয় দল। সেখানে চলতি সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচই জিতে নিয়েছে বিরাট কোহলির দল। এরপরও যদি সিরিজ না জেতা যায়, এর চেয়ে বড় আফসোসের আর কিছু থাকবে না।
বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে আজও। কিন্তু পূর্বাভাসই বলছে, সকালে অল্প বৃষ্টি হয়ে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে। ম্যাচ যেহেতু স্থানীয় সময় দুপুর একটায় (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টায়), বৃষ্টিতে ম্যাচে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা কম।

পোর্ট এলিজাবেথের উইকেট অনেকটা ভারতীয় উপমহাদেশের মতো। অবশ্য এখানে উইকেটে একটা টেনিস বল সুলভ বাউন্স থাকে। এই ধরনের উইকেটে ভারতীয় স্পিনারদের ভেল্কি আবার দেখা যেতে পারে। প্রোটিয়ারা প্রথম তিনটে ম্যাচের পর ইউজবেন্দ্র চাহাল-কেদার যাদবকে খেলা নিয়ে অনেক বেশি হোমওয়ার্ক করেছে, যা দেখা গিয়েছিল ওয়ান্ডারার্সে।

নো বলে আউট হয়ে বেঁচে যাওয়ার পর ডেভিড মিলার, হেনরিক্স ক্লাসেন ও ফেহলুকাইয়ো দেখিয়ে দিয়েছেন পাল্টা আক্রমণ করে স্পিনারদের ছন্দ ভেঙে দেওয়া যায়। বল ভিজে থাকায় ভারতীয়দের অসুবিধে হয়েছে ঠিক, কিন্তু পোর্ট এলিজাবেথেও প্রোটিয়ারা যে আক্রমণাত্মক নীতি নেবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

ভারত যতই ৩-১ এগিয়ে থাকুক- পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, চলতি ওয়ানডে সিরিজে ভারতের টপ অর্ডারে শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলি ছাড়া সেভাবে কেউ রান করতে পারেননি। আজিঙ্ক রাহানে ডারবানে প্রথম ম্যাচে ৭৯ করে মিডল অর্ডারে বিরাটকে ভরসা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরের ম্যাচগুলোয় হাতে যথেষ্ট ওভার থাকা সত্ত্বেও কারও সঙ্গে জুটি বেঁধে লম্বা পার্টনারশিপ করতে পারেননি।

ফলে বাড়তি চাপ নিতে হয়েছে বিরাটকে। এতে প্রতিপক্ষের একটা ধারণা তৈরি হয়েছে, টপ অর্ডারে বিরাটকে দ্রুত ফেরাতে পারলেই ম্যাচের রাশ নিয়ে নেওয়া যাবে। লক্ষণীয় এই যে, চারটে ম্যাচের একটাতেও ব্যর্থ হননি বিরাট। চার ইনিংসে তার রান ১১২, ৪৬ নট আউট, ১৬০ নট আউট, ৭৫৷ অর্থাৎ কোনও ম্যাচেই বিরাট না থাকলে ব্যাটিং কী করবে, তার পরীক্ষা হয়নি।

সব মিলিয়ে সিরিজে ভারত যতই এগিয়ে থাকুক, অতিরিক্ত বিরাট নির্ভরতার প্রসঙ্গ উঠে আসছেই। মিডল অর্ডারে রাহানে রান পেয়ে গেলে এতটা সমস্যা থাকার কথা ছিল না। যে কোনো ভালো ওয়ানডে দলে টপ অর্ডারের পাশাপাশি ছয় আর সাত নম্বর জায়গা খুব জরুরি। যেখানে ভারতের বড় সমস্যা। বোলিং বরং অনেক জমাট। ভুবনেশ্বর এবং বুমরা নিজেদের কাজটা করছেন। একটা ম্যাচ ছাড়া স্পিনাররা অসাধারণ।