obaidul kader

ভিআইপি ও জরুরি সেবায় ঢাকার রাস্তায় পৃথক লেনের প্রস্তাব প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অ্যাম্বুলেন্সের মতো সেবায় আলাদা লেন প্রয়োজন।

রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, আমার কাছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাবের বিষয়ে ডিটিসিএ (ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ) তে এখনও সভা করিনি। তবে ডিটিসিএ বিষয়টা খতিয়ে দেখছে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, এটা শুধু ভিআইপিদের জন্য আলাদা লেন নয়, এখানে রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি সেবার বিষয়টা আছে। এগুলো বিশেষভাবে করলে অসুবিধা কি?

‘পারসোনালি আমি মনে করি, ওটা ঠিক আছে- অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি সেবা- এসব ব্যাপারে এ ধরনের লেন যদিও আমাদের স্পেস খুব কম, কতটা সম্ভব হবে আমি জানি না। আপাতত ডিটিসিএ এমন কোনো ব্যবস্থা করতে পারবে, এই মুহূর্তে সেটা ভাবার কোনো কারণ নেই।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি মনে করি আমাদের ধীরে ধীরে দৃঢ়তার সঙ্গে ভিআইপি সংষ্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। এদেশের মানুষ, জনগণের কথা আগে আমাদের ভাবতে হবে। আমরা আলাদা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবো, সাধারণ মানুষ সেটা থেকে বঞ্চিত থাকবে, সেটা আমার মনে হয়… আমরা যেহেতু পলিটিক্যাল গভর্মেন্ট, আমরা এসব বিষয়ে চিন্তা করবো কিনা, গভীরভাবে ভাবতে হবে।

‘আমি মনে করি, ভিআইপি কালচার থেকে বেরিয়ে আসলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। রাস্তায় ভিআইপি কালচার আইন করে বন্ধ করা যাবে না। আমরা যারা আক্ষরিক অর্থে কাগজে-কলমে ভিআইপি তাদের মনমানসিকতা পরিবর্তন দরকার। আমি রাস্তার উল্টো দিকে যাবো কিনা, আমার ওপর…। আমার জন্য আলাদা সড়ক থাকতে হবে- এরও কোনো প্রয়োজনীয়তা নাই। তারপরও আমরা ডিটিসিএ বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।’

বাস-র‌্যাপিড ট্রানজিট হলে আলাদা লেনের দরকার নেই- এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ওটা সামান্য জায়গা, গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর। দ্বিতীয়টা এখনও বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে, এখনও পুরোপুরি হয়নি। আমরা আপাতত প্রথমটা নিয়েই।

‘ভিআইপি লেন জরুরি সেবার জন্য যায়! করতে পারলে ভালো হয়। ভিআইপিদের জন্য, আমি এক কথায় বলবো ভিআইপি কালচার থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’

‘পদ্মাসেতু নির্মাণে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যাবে’- অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী তো আর যোগাযোগ মন্ত্রী না। আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা আছে, বিশেষজ্ঞরাও বলেন- আমাজনের মতো পদ্মাও। এরপরও আমাদের যে সময়টা পেরিয়ে গেছে। বেশকিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। এখন কোনো প্রবেলেম নাই। আমাদের পরবর্তী স্প্যান বসবে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে।

মেট্রো রেলের কাজ পূর্ণ গতিতে চলছে জানিয়ে কাদের বলেন, এটা ২০২৪ সালে বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু জাইকা ২০১৯ নিয়ে এসেছে। ’২০ এর মধ্যে সব শেষ হবে। হলি আর্টিজানের কারণে পিছিয়ে গেছে সময়।

তিনটি সেতুতে জাইকা বিশ্বের সর্বশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা এবং দ্বিতীয় গোমতী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। এতে ৭০০ কোটি টাকা কমে আসছে।