bipasha

বিপাশা হায়াত। অভিনয় মাধ্যমের একসময়ের জনপ্রিয় মুখ। এখন অভিনয়ে নিয়মিত না হলেও ছবি আঁকা ও জনসচেতনতামূলক কাজে যুক্ত আছেন। কেমন সেসব অভিজ্ঞতা? জানালেন

আপনি ১৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি বোর্ডের বিচারক ছিলেন, কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

এমন উৎসবে যোগ দেওয়াটা অবশ্যই আনন্দের এবং নতুন অভিজ্ঞতার। এটাকে এক ধরনের সম্মান বা স্বীকৃতিও বলতে পারেন। যদিও আমি কোনো আলোচনায় অংশ নেইনি। অনেকদিন ধরেই তো কাজ করছি -এত বছর আমার যে থিয়েটার করা, টেলিভিশনে অভিনয়, নাটক রচনা ও পরিচালনা, সবমিলিয়ে বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে কাজে লেগেছে। এখানে চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি বোর্ডের বিচারক হিসেবে আমি আমন্ত্রিত ছিলাম, তাই আলোচনাতে অংশ নেইনি। আমি আসলে একটু নিঃশব্দে থাকা এবং নিজের ভাবনা ও বিশ্বাস নিয়ে কথা বলার চাইতে কাজ করতেই বেশি ভালোবাসি। সেটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এই উৎসবে আমি কেবলই শ্রোতা হিসেবে গিয়েছিলাম। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নির্মাতাদের বোধ বা অভিজ্ঞতা সরাসরি জানাটাও খুব বড় ব্যাপার

আপনি জনকল্যাণ বা সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন, যেমন মেরিলের কথা বলা যায়, কিংবা শিশুদের খাবার নিয়ে…

নিজের ভালোলাগার বিষয়টি প্রথমে পায়োরিটি পায়। আর সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শিশুদের কথা মাথায় রেখে একটি ভালো পণ্য বাজারে আনবার জন্য স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কাজ করছে, আমি এতে অংশ নিয়েছি। বাচ্চাদের খাবার নিয়ে আমাদের মায়েরা সবসময়ই খুব সচেতন। কিন্তু তারপরেও বিভিন্ন রকম খাবার থেকে অজান্তেই বাচ্চাদের শরীরে অনাকাক্সিক্ষত জীবানু প্রবেশ করে তাদের অসুস্থ করতে পারে। এমনই একটি বিষয়ে মায়েদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিতে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের নুডল্স ব্র্যান্ড ‘চপস্টিক’ একটি বিজ্ঞাপন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলো। আর বিজ্ঞাপনটির ভালো উদ্দেশ্য রয়েছে। বাচ্চাদের খাবার নিয়ে আমরা মায়েরা ভীষণ খুঁতখুঁতে। দিনের কোন সময় কী খাওয়াতে হবে, খাবারের মাধ্যমে বাচ্চারা প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছে কিনা, খাবারে ক্ষতিকর কিছু আছে কিনাÑএসব নিয়ে মায়েদের ভাবনার শেষ নেই। কিন্তু অনেক সময় মায়েদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর। এই বার্তাটি আমি মনে করেছি সবার জানা উচিৎ। বার্তাটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পেরে আমি আনন্দিত।

আপনি অনেকদিন ছবি আঁকছেন, চিত্রকর্ম নিয়ে এখনকার ভাবনা ও পরিকল্পনা কী?

ছবি আঁকার বিষয়টি আসলে আমার অতীত ও বর্তমান এবং আমার মৌলিক আবেগ ধরে রাখার জায়গা। ক্যানভাসে আমার শিল্পকর্মের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির বিমূর্ত আবেগকে তুলে আনার চেষ্টা করি। এটা করে আমি খুবই আনন্দ পাই। একটা সময় পরিকল্পনা ছিল একদিন অভিনয় কমিয়ে দিয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছবি আঁকব। আমি এখন সেই পথেই আছি। অভিনয় এখন আমাকে কম টানে। তারচেয়ে ক্যানভাস আমাকে বেশি টানে। এলেবেলে ধরনের ছবিও আমি আঁকতে চাই না। নানা ধরনের ও বিষয় নিয়ে আমি ছবি আঁকতে চাই। এখন আমি প্রকৃতি নিয়ে কাজ করছি। কারণ এই মুহূর্তে আমাকে প্রকৃতি আকর্ষণ করছে। আমার মন যেখানে টানবে, সেই কাজটাই আমি করব। এবার ক্যানভাসে রঙ ঢেলে, আঁচড় কেটে টেক্সচার তৈরি করে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি তুলে আনার চেষ্টা চালিয়েছি। সেই স্মৃতিরই নির্যাস পাওয়া যাবে আমার এসব শিল্পকর্মে। প্রতিটি ছবিতে রয়েছে আমার চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন। ক্যানভাসে খুঁজি নিজের ছায়া

এখন কী নিয়ে আছেন?

সংসার ও সন্তান নিয়ে আছি। ছবির কাজ করছি। নানা ধরনের কাজের ভেতরেই আছি। এখন আমি ছবি আঁকাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করি । আমি সবসময় এই জগতে ডুবে থাকতে চাই। অভিনয়, লেখালেখি বা মঞ্চ সবই আমার ভালোলাগার যায়গা । কিন্তু এখন বেছে কাজ করার চেষ্টা করছি। অভিনয়ে কমই সময় দেই এখন। বিজ্ঞাপনে কাজ করি সময় পেলেই। চেষ্টা করি, সেটা যেন জনকল্যাণমূলক কিছু হয়।