puji bazar

চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক৷ ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারকে কর্পোরেট গ্রাহক ও প্রবাসী বাংলাদেশির কাছে আরো গ্রহণযোগ্য ও বিনিয়োগে আকৃষ্ট করবে বলে মনে করছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ডিএসই’র পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে সময়োপযোগী ও দিকনির্দেশনা মূলক মূদ্রানীতি প্রধানের জন্য অভিনন্দন জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রা, কর্মসংস্থান তথা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সময়োপোগী ও দিক-নির্দেশনা মূলক মুদ্রানীতি। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সমর্থনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ তথা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়৷

দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নে কর্পোরেট গ্রাহকদের মেয়াদী প্রকল্প বিনিয়োগ অর্থায়নে ব্যাংকগুলোর ওপর অতি নির্ভরতার প্রবণতা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে এনে এদেরকে মূলধন বাজারে বন্ড ইস্যু করে অর্থায়ন সংগ্রহে উৎসাহ ও সহায়তা প্রদানে ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় করার কথা বলা হয়েছে৷ এতে পুঁজিবাজারে পণ্যের বৈচিত্র্যতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি এর গভীরতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়৷

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈদেশিক সঞ্চয় ও আর্থিক বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থ ও মূলধন বাজারমূখী করার জন্য অনিবাসী বিনিয়োগ টাকা হিসাব (NITA) খুলে বাংলাদেশের মূলধন বাজারে এদের পোর্টফোলিও বিনিয়োগ পরিচালনায় ব্যাংকগুলোকে আরও বেশি উদ্যোগী করার বিষয়ে বিশেষভাবে জোর দেয়া হয়েছে। এতে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ আরো বৃদ্ধি পাবে৷

ডিএসই’র পক্ষ থেকে বলা হয়, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিকাশে সারা বিশ্বে নীতি-সমর্থন এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকে, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সে ধরনের ভূমিকাই রয়েছে বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বিশ্বাস করে৷ এই মুদ্রানীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে প্রধান্য দেয়ার জন্য পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষ থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাচ্ছে।

এর আগে গত সোমবার মূল্যস্ফীতির হার ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে জুন পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ ও সরকারি খাতে কমিয়ে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন মুদ্রানীতিতে জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ধরা হয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। যা আগে প্রথমার্ধে ছিল ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ শতাংশ। আগে ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।