cape-town-

বিশ্বখ্যাত টেবিল মাউন্টেন বা টেবিলের মতো পর্বত, আফ্রিকান পেঙ্গুইন, সাগর ও রোদের উজ্জ্বলতার শহর হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন। আর এসব কারণেই বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আগ্রহের অন্যতম কেন্দ্রে থাকা জায়গাগুলোর মধ্যে এটিও একটি।

কিন্তু অল্পদিনেই হয়তো এ শহরটির বিখ্যাত হয়ে উঠতে পারে আরও একটি কারণে। আর সেটি হলো সম্ভবত কেপটাউনই হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম পানিহীন শহর। সাম্প্রতিক উপাত্তগুলো আভাস দিচ্ছে যে, মার্চের শুরুতেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে কেপটাউনের অধিবাসীরা কিংবা ভ্রমণরত পর্যটকরা।
এ সংকট বা সমস্যার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে যে, গত তিন বছরে ইতিহাসের সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে সেখানে। অন্যদিকে দিনে দিনে শহরটিতে জনসংখ্যা বেড়েই চলেছে। শহরের প্রায় চল্লিশ লাখ অধিবাসীকে সংরক্ষণ করা পানি ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে তাও আবার দিনে কোনভাবে ৮৭ লিটারের বেশি নয়। খাবার, গোসল, টয়লেট কিংবা আনুষঙ্গিক সব দরকারের জন্যই এটুকুই বরাদ্দ করা হয়েছে। গাড়ী ধোয়া বা সুইমিং পুলে পানি রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তীব্র খরার সময় পানি ব্যবহারের সীমা ৫০ লিটারে নামিয়ে আনে কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের সব প্রচেষ্টা আসলে ডে-জিরোকে বিলম্বিত করা। ডে-জিরোর নির্ধারণ হয়ে আছে ১২ই এপ্রিল। সেদিন কেপটাউনের পানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। কিন্তু ৫০ লিটার পানি ব্যবহার সত্যিই কঠিন সেখানকার মানুষের জন্য। কারণ সাধারণত একবার শাওয়ার বা গোসলের সময় প্রতি মিনিটে দরকার হয় ১৫ লিটার পানি। কিংবা টয়লেটে ফ্ল্যাশে প্রতিবার দরকার হয় ১৫ লিটারের মতো পানি। পানির এমন সংকটের সঙ্গে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে উঠলেও এ নিয়ে ক্ষোভ এবং অভিযোগও বাড়ছে।

কেপটাউনের পানিবিষয়ক যেসব তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ তা হলো- পানি ব্যবহারের সীমা : প্রতি অধিবাসী ৮৭ লিটার, পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে তা হবে ৫০ লিটার। ডে জিরো : ১২ এপ্রিল। শাওয়ার বা বেসিনে ব্যবহৃত পানি টয়লেট, গাড়ি ধোয়া বা বাগানের কাজে ব্যবহার করতে হবে।