du-

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের(ঢাবি) উপাচার্যকে উদ্ধার করার নামে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় প্রগতিশীল ছাত্র জোট। সোমবারের এই ধর্মঘটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তেমন একটা প্রভাব পড়েনি। আন্দোলনকারী ছাত্ররা কলা ভবনের একটি গেইট বন্ধ করে রাখলেও ভবনের অন্য গেটগুলো খোলা ছিল। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ভবনে ক্লাস-পরীক্ষা চলতে দেখা গেছে।

এদিন দুপুর ১২টায় ধর্মঘট সমাপ্ত ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা সংবাদ সম্মেলন করে। মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয় সেখান থেকে।

ভিসি কার্যালয়ে বিক্ষোভে দুই দফা হামলার ঘটনায় দায়ী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, প্রক্টর কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচির সময় ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন দেওয়ার চার দফা দাবিতে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো এই আন্দোলন করছে।

আন্দোলনকারীরা সকালে ক্যাম্পাসের কলা ভবনের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর সেখানে অবস্থান নেন। এই সময় বিভিন্ন মিছিল নিয়ে তারা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।

সকাল ১০টার দিকে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, কলা ভবনের অন্য তিনটি গেইট দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করছে। একই অবস্থা ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ একাডেমিক ভবনগুলো, মোতাহার হোসেন ভবন, মোকাররম ভবন, কার্জন এরিয়া, শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ক্লাস-পরীক্ষা চলছে।

ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তুহিন কান্তি দাশ বলেন, আজকের ধর্মঘটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থন ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জোর করে ক্লাসে নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জানুয়ারি সাত সরকারি কলেজের অধিভুক্ততা বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় নারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ জানুয়ারি সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

খবর পেয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উপাচার্যকে উদ্ধার করেন। পরে বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। রেজিস্ট্রার ভবন এলাকায় দফায় দফায় তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।