Sutro-SSC

শিক্ষার্থী বন্ধুরা,

এসএসসি পরীক্ষার গণিত বিষয়ে ভালো ফলাফলের জন্য শুধু অধিক অনুশীলনই যথেষ্ট নয়, পরীক্ষার হলে মাথা ঠাণ্ডা রেখে সব প্রশ্নের উত্তর সঠিক করার জন্য যথাযথ প্রস্তুতিও থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞ মাস্টার ট্রেইনার প্যানেল এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেছেন।

 

সৃজনশীল অংশ : ৭০ নম্বর

গণিত বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরের জন্য ৭০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে, প্রতিটি প্রশ্নের মান ১০। প্রশ্নপত্রে ‘ক’ বিভাগ (বীজগণিত) থেকে ৩টি, ‘খ’ বিভাগ (জ্যামিতি) থেকে ৩টি এবং ‘গ’ বিভাগ (ত্রিকোণমিতি ও পরিমিতি) থেকে ৩টি, ‘ঘ’ বিভাগ (পরিসংখ্যান) ২টি করে মোট ১১টি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে।

বীজগণিত অংশ থেকে ২টি, জ্যামিতি অংশ থেকে ২টি ত্রিকোণমিতি ও পরিমিতি অংশ থেকে ২টি এবং পরিসংখ্যান অংশ থেকে ১টি করে মোট ৭টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার পূর্বে উদ্দীপকগুলো ভালোভাবে পড়বে এবং তৎসংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলো বুঝবে। যে উদ্দীপকটির সবগুলো প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে জানা আছে সেটির উত্তর আগে লিখবে।

প্রতিটি স্তরের উত্তর ধারাবাহিকভাবে লিখবে। অর্থাৎ প্রথমে সহজ মান (ক) এরপর মধ্য মান (খ) এবং সবশেষে কঠিন মান (গ) স্তরের প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। এ জন্য সূত্রগুলো ঠোঁটস্থ রাখতে হবে।

‘ক’ প্রশ্নের উত্তর উদ্দীপক বা দৃশ্যকল্পের তথ্যের আলোকে লিখবে। উদ্দীপক বা উদ্দীপকসহ ‘ক’ নম্বর প্রশ্ন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সূত্র প্রয়োগ করে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে ‘গ’ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

জ্যামিতিক উপপাদ্যে বিশেষ নির্বাচনের পর চিত্র দিলে কোনো নম্বর পাবে না, কিন্তু সম্পাদ্যের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

জ্যামিতির উপপাদ্যে বিকৃত চিত্র অঙ্কন করলে কোনো নম্বর পাবে না, চিত্র চোখের দৃষ্টিতে শুদ্ধ হলেই চলবে।

উত্তরপত্রে কাটাছেঁড়া কিংবা ওভাররাইটিং যেন না হয় বা কম হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে।
বহুনির্বাচনী অংশ : ৩০ নম্বর

এ বিষয়ে ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন থাকবে, প্রতিটি প্রশ্নের মান ১। ৩০টি প্রশ্নের উত্তর ৩০ মিনিটে দিতে হবে।

প্রশ্নগুলো ঠিক ঠিক বোঝার ওপরই নির্ভুল উত্তর প্রদান নির্ভর করে। তাই প্রতিটি প্রশ্ন অত্যন্ত মনোযোগসহকারে পড়ে উত্তর নির্দিষ্ট করতে হবে। অতঃপর নির্দিষ্ট উত্তরের বৃত্তটি ভরাট করতে হবে।

প্রশ্নপত্রের প্রতিটি বিষয় ভালোভাবে পড়ে এবং বুঝে উত্তরপত্রের নির্দিষ্ট বৃত্তগুলো সাবধানে ভরাট করবে। তবে একটি বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে- বৃত্ত ভরাট করতে গিয়ে যেন কোনো অবস্থাতেই বৃত্তের বাইরে কালির রেখা চলে না যায়।

ভুল উত্তরের জন্য কোনো নম্বর কাটা যায় না। তাই জানা-অজানা সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। উত্তরপত্রে কোনভাবেই ঘষামাজা কিংবা কাটাকাটি করা যাবে না।

বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনী প্রশ্নে সঠিক উত্তর শনাক্ত করার জন্য তিনটি Option থাকে, যাদের যে কোন একটি, দুটি বা তিনটির সঠিক হতে পারে।

এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

পরীক্ষায় রিভিশন, ভুলত্রুটি সংশোধনের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দেয়। এজন্য পরীক্ষা শেষের ১৫ মিনিট পূর্বে সর্তক ঘণ্টা বাজার আগে উত্তর লেখা শেষ করতে হবে। এ সময় উত্তরপত্রের অবশ্য পূরণীয় শর্তগুলো আরেকবার দেখে নিয়ে বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করবে।

অন্তত একবার সব উত্তরে চোখ বুলাতে হবে। এ সময় সূত্রের প্রয়োগ, হিসাব ইত্যাদিতে কোনো ভুল আছে কিনা তা ভালোভাবে দেখতে হবে।

লেখক : সৈয়দ কায়েস-উর-রহমান

সহকারী শিক্ষক, মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ