pauli-h

এখনও যেন বিষ্ময়ের ঘোর কাটেনি একটুও। ‘আমার রূপকথার পাহাড়ের দল। এত বছর পেরিয়ে তাদের দেখতে পেলাম! ছোটবেলার বই-বন্দী রূপকথার দেশের যে ছবি মনের মধ্যে এত কাল ভরা ছিল, সেটাই খুলে গেল চোখের সামনে। সেই তারা ভরা রাত আর মিঠে রোদের দুধ ফেনা পাহাড় যার নাম সুইজারল্যান্ড! আমার স্মৃতিগুলো ওদের দেখে চকমকিয়ে উঠল। দেখলাম, কেবল আমি আর অর্জুন!’ এমন ভাবে কথাগুলো বলছিলেন যেন পাওলি দামের গলায় বিস্ময়ের বরফ লেগে আছে। এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ করেছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা।

বিদেশ ভ্রমণ পাওলির কাছে নতুন কিছু নয়। তার স্বামী অর্জুনও ছোটবেলায় জুরিখ ঘুরে এসেছেন। কিন্তু নায়িকার সুইজারল্যান্ড ছোঁয়া এই প্রথম। মাথায় ছিল জুরিখ, সেন্ট মরিৎজ, জারমাট। সেই মতো দুবাইয়ে পারিবারিক জমায়েত সেরে সোজা ক্রিম ঢালা শীত পথে। দু’জনের একান্ত বিনিময়ের এই দিনে যদিও সুটকেস ছিল আলাদা। মজার সুরে পাওলি বললেন, ‘ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে ট্রেক করতে গিয়ে নিজের জিনিস নিজে বইতে শিখেছি। আর আমি মনে করি বেড়াতে গেলে সব সময় নিজের জিনিস নিজের নিয়ে চলা উচিত। অর্জুন ওর নিজেরটা প্যাক করেছে আলাদা করে, আর আমি আমারটা। হ্যাঁ, প্রয়োজনে সাহায্য অবশ্যই করেছি।’

সুইজারল্যান্ডের বরফে ঢাকা পথে বেড়ানোর সেলফি

কথা বলতে গিয়ে বার বার বলছিলেন এই পাহাড়ি ভ্রমণ যেন সব কিছু থেকে আলাদা। দিনের বেলা কোনও শহরকে ঠিক কেমন দেখায়, তা তার ভালভাবে জানাই হয়নি বেড়াতে গিয়ে। বেশির ভাগ শহরেই সকাল সকাল জলখাবার সেরে দৌড়াতে দৌড়াতে শুটে। ফিরেছেন যখন ততক্ষণে সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। এবার যেন সব উলট পালট হয়ে গেছে।

সেন্ট মরিৎজে ইতিহাস তাদের তাড়া করে বেড়িয়েছে। ‘১৭ শতাব্দীর বাড়ি আজও ওরা একইভাবে রেখে দিয়েছে।বাড়ির মধ্যে তখনকার পশু খামার, আগুন পোহানোর রীতি দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, আমি অনেক পিছিয়ে নিজেকে দেখতে পাচ্ছি। কী সুখ যে ওখানকার মানুষের হাসিতে।ওখানে গিয়ে মনে হয়, চিন্তা, স্ট্রেস এগুলোও স্রোতের মতো। বরফ পাহাড় এগুলোকে নিজের কাছে জমিয়ে সব ভুলিয়ে দেয়’— যোগ করলেনপাওলি।

বাঁক, সুড়ঙ্গ, সাঁকো সামলে বরফের মধ্যে দিয়ে রেল লাইনে পাহাড়ের পথে যখন গিয়েছিলেন, মনে হয়েছিল এখানেই পৃথিবী যদি থেমে যেত। অর্জুনের বাড়ি থেকে যখন কথা বলছেন, তখনও তার গলায় যেন শীত জড়িয়ে। ওই রেল সফরে তিনি এখনও যেন ডুবে আছেন। আসলে সুইস রেলের ঐতিহ্যের সঙ্গে সুইস নিপুণতার মেলবন্ধন এখানে দেখা যায়। তিনি জানালেন, সুইজারল্যান্ডের মানুষ ট্রেনে চাপতে বড় ভালবাসেন। শোনালেন, ট্রেন ম্যানেজার পাইডার হেয়ার্টলির উক্তি। তার মতে, ‘ফুটবলে কোনওদিন বিশ্বকাপ না পেলেও রেল যাত্রার ক্ষেত্রে আমরাই চ্যাম্পিয়ন। এ নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। অন্য কোনও দেশের মানুষ এত বেশি ট্রেনে চাপেন না। সবচেয়ে বড় ট্রেনের সুড়ঙ্গও এখানেই আছে।’

পাওলির স্বপ্নপূরণ। ছবিটি টুইটারে শেয়ার করেছেন নায়িকা।

বার বার নিজের উপলব্ধির কথা বলছেন! কই অর্জুনের কথা তো বলছেন না? ‘অর্জুন দারুন ট্র্যাভেলার। খুব অরগানাইজড। আমার খুব খেয়াল রেখেছে…’ আবেগ জড়ানো গলায় বললেন নায়িকা।

এই হানিমুনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির কথা জানতে চাইলাম, আবার এড়িয়ে গিয়ে নিজের রাস্তায় হাঁটলেন পাওলি। ‘আমি বেড়াতে গিয়ে একটুও ডায়েট করিনি। সুইজারল্যান্ডে এসেছি আর চকোলেট, চিজ খাব না! হতেই পারে না। প্রচুর খেয়েছি। মোটাও হয়েছি। ইচ্ছে হল তো সারাদিন ঘুমিয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা তার জন্য আমার কোনও পাপ বোধ নেই।’

ঠাণ্ডায় জবুথবু পাওলি ও অর্জুন

নানা রকম চকোলেটের দেশ সুইজারল্যান্ড। মন ভাল করা খাবারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চকোলেট। হেসে বললেন পাওলি, ‘তাহলে সুইজারল্যান্ডের মানুষ কেন সুখী হবে না, বলুন তো?আর ওদের ভারত, কলকাতা নিয়ে প্রচুর আগ্রহ। আমি আর অর্জুন কথা বলে বুঝেছি সেটা।’

বরফের মাঝে হারিয়ে যেতে গিয়েই নাকি ঘটেছিল বিপত্তি? মিডিয়া তো তোলপাড়! সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছেন নাকি আপনারা? পাওলি বললেন, ‘তেমন কিছুই না। দিন দুয়েক তুষারপাতের জন্য আমাদের রিসোর্টে আটকে থাকতে হয়েছিল। প্রথমে ভয় পেলেও পরে বেশ মজা পেয়েছি। ধুর সব কিছু প্ল্যান করে করায় মজা নেই…’ রহস্য তার গলায়। ঘরের চাবি বরফ পাহাড়ে রেখে যেন ইচ্ছে করেই অর্জুনের সঙ্গে নিজের রূপকথা তৈরি করছিলেন তিনি। সব কি আর বলা যায়! এক কথায় বললেন, ‘বেড়ানো নয়, এ যেন স্বপ্ন সত্যি হওয়ার সময়।’

একলা বারান্দায় যেমন পাহাড়ের আলো আঁধারি দেখেছেন, তেমনি শীত ঘুম জড়ানো গির্জার কাছে দু’জনে দু’জনের জন্য নত হয়েছেন।

এই পাওলি যেন অন্য কেউ! কে জানে হয়তো ভিতরের কথা বলে ওঠা এক পাহাড়ি মেয়ে। তার সামনে তখন কেবল সাদা আকাশ, পাহাড়। আনেক দূরে নতুন কাজ, গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড। মাথার ভেতর কারও দখলদারী নেই।

কেবল ক্যানভাস বড় হয়…পাহাড় কাছে ঘেঁষে!