muhit

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ণে মারাত্মক সমস্যা ও বোঝা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।আজ বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) দুই দিনব্যাপী বৈঠকে নিজ বক্তৃতাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে আমরা মারাত্মক সমস্যায় পড়েছি। এটি সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সমস্যা সমাধানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে পাশে দাঁড়ানোয় ধন্যবাদ জানিয়ে আগামীতেও পাশে থাকার আহবান জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদ সমস্যা হলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা সম্ভব হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী মার্চ মাসেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, অমিত সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ, বিশ্বের বুকে একটি গতিশীল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার ক্ষমতা আমাদের আছে। বাংলাদেশ আজ আর্থ-সামাজিক দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে সারাবিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে হিসেবে উন্নীত করতে চাই। এই উন্নয়ন পরিকল্পনার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বড় চ্যালেঞ্জ অর্থ যোগান দেওয়া। আমরা দারিদ্রের হার নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। ২০১১ সালের মধ্যে দারিদ্রের হার ১৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে কাজ করতে হবে।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৯ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৩ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহৃত হচ্ছে। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। মাথাপিছু আয় উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে ব্যাক্তিগত অংশগ্রহণ জরুরি মনে হওয়ায় সরকার বর্তমানে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। একই সঙ্গে জলবায়ু সহিষ্ণু খাদ্য উৎপাদনে গবেষণা করে সফল হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে যেখানে আমাদের দারিদ্রের হার ছিল ৫৬.৭ শতাংশ, আমরা সেই দারিদ্রের হার ২২.৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। অতি দারিদ্রের হার ৭.৯ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। এ পর্যায়ে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্রমূক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এ সময়ে দারিদ্রের হার ১৪ শতাংশের নীচে হ্রাস করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিগত এক দশকে আমাদের গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.২৬ শতাংশ। গত অর্থবছরে এই হার ৭.২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে আমাদের রপ্তানি আয় ও বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ তিনগুণ বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় নয় গুণ বেড়ে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।