Mithun mash

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এবার মাশরাফি বিন মুর্তজার রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলেছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। বিদেশিদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে দারুণ অবদান রখেছিলেন তিনি। আর তাতেই অধিনায়ক মাশরাফির আস্থা কেড়েছিলেন মিঠুন। ব্যাটসম্যানকে আস্থা দিয়েওছিলেন। আর মাশরাফির সে আস্থা এবার জাতীয় দলেও রয়েছে বলে মনে করেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। মূলত এ কারণেই প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আবার জাতীয় দলে ফিরেছেন বলে মনে করেন মিঠুন। শুধু তাই নয়, মাশরাফির আস্থা না যোগাতে পারলে এবারও হয়তো ফেরা হতো না বলেই মনে করেন তিনি।

 

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেন মিঠুন। আগের দিনই ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য ১৬ জনের দল ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৪ সালের পর আবার ওয়ানডে দলে ফিরেছেন মিঠুন। বিপিএলের পারফরম্যান্স ও অধিনায়কের আস্থাতেই দলে ফিরেছেন বলে যে বিশ্বাস তার তা খোলাখুলি জানালেন তিনি, ‘আমার তো মনে হয় আমার বিপিএলের পারফরম্যান্স পুরোটাই সাহায্য করেছে। কারণ ওখানে আমার অবদান ছিল, পাশাপাশি আমাদের টিম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আমি সৌভাগ্যবান যে আমার দলের যে অধিনায়ক ছিলেন যে বাংলাদেশ দলের তিনিই অধিনায়ক। তিনি আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। আমার ওপর আস্থা রেখেছেন বলেই আমি আজ এখানে। উনি আস্থা না রাখলে আমি এখানে থাকতে পারতাম না।’

২০১৪ সালে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় মিঠুনের। সে সিরিজেই খেলেন নিজের শেষ ওয়ানডে। এরপর কেটে গেছে অনেক সময়। এর মধ্যে অনেক বদলেছেন তিনি। যদিও মাঝে টি-টুয়েন্টি দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও পারফর্ম করতে পারেননি বলে আবার হারিয়ে গেছেন। তবে সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে দারুণ পারফরম্যান্স করেই আবার নজরে আসেন তিনি। এছাড়াও গত কয়েক বছরে ঘরোয়া ক্রিকেটেও ভালো খেলেছেন মিঠুন। এর আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রমাণ না করতে পারলেও এবার নিজেকে প্রমাণ করতে চান। দলে একটা জায়গা চান নিয়মিত।

‘আসলে ভালোর তো শেষ নেই। আমি যা করেছি তার থেকেও আরও ভালো করার সুযোগ আছে। আমি এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে দেখাতে পারিনি। অবশ্যই প্রথম টার্গেট যে বাংলাদেশের হয়ে ভালো খেলার, ভালো কিছু করার। আমি হয়তোবা ক্লাব কিংবা ফ্রাঞ্চাইজির হয়ে ভালো খেলেছি। চূড়ান্ত যে লক্ষ্য সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ দলের হয়ে ভালো খেলা। আমার দিক থেকে শতভাগ চেষ্টা থাকবে যে দেশের হয়ে কিছু যেন করতে পারি।’

আর এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন বলেও আশাবাদী মিঠুন। সে আত্মবিশ্বাসটা পেয়েছেন বিপিএল থেকেই, ‘বিপিএলের সাথে অনেকটাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মিল আছে। আমি যেটা ব্যক্তিগতভাবে অনূভব করি। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব বেশি বিদেশি থাকে না। ক্যামেরা-দর্শক থাকে না। বিপিএল আন্তর্জাতিক যে আবহ সেটা পুরোটাই পাওয়া যায়। হয়তোবা পাঁচজন বিদেশি ছিল, বাকি সবাই দেশি। তারপরও পাঁচজন বিদেশি তাদের বিপক্ষে খেলতে হয়েছে। আবার একসঙ্গে ড্রেসিং রুম শেয়ার করতে হয়েছে। দর্শকের যে চাপ ছিল…সব কিছু মিলিয়ে বিপিএলের সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মিল আছে।’

প্রতিভা থাকলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি মিঠুন। দল থেকে বাদ পড়ার কষ্টটা খুব অনুভব করেছেন তিনি। তাই এবার নিজের স্বপ্নটা পূরণ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, ‘দল থেকে বাদ পড়া সব সময়ই কষ্টের। কেউই চায় না যে দল থেকে বাদ পড়তে। আর বাংলাদেশ দলে খেলা এবং পারফর্ম করা সবারই স্বপ্ন থাকে। এখন আবার সেই স্বপ্নটা এসেছে, তাই ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব খুশি।’