sunday

দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রিদেশীয় সিরিজ। এখনো দল ঘোষণা করা হয়নি। সেই টুর্নামেন্ট ঘিরে আগামী ৭ জানুয়ারি ঘোষিত হবে দল। এবারই প্রথম চন্ডিকা হাথুরুসিংহে দল সাজানোর সময় থাকছেন না। হাথুরুসিংহে কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোয়, এখন অনেকটা মুক্ত বিহঙ্গ নির্বাচকরা। ত্রিদেশীয় ক্রিকেট ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজে দল সাজাবেন নান্নু, বাশার, সুজন ও তিন ফরমেটের দুই অধিনায়ক।
গতকাল (মঙ্গলবার) মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের লাগোয়া একাডেমি মাঠে দুই নির্বাচক নান্নু ও বাশারের সঙ্গে অনেকটা সময় কথা বলতে দেখে গেছে ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফিকে। পরে মাশরাফি বলেন, ‘নির্বাচকরা বসে আলোচনা করে দল দেন। আমিও পরামর্শ দিবো। একদম যে পরামর্শ দিবো না, তা নয়। এখন যেহেতু কোচ নেই, সুজন ভাই এবং অন্যরা আছে, তারা নির্বাচকদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে দল দিবেন। বর্তমানে ৩২-৩৩ জন অনুশীলন করছে। এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে (নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে)।’
এদিকে নতুন বছরের তিনদিন কেটে গেছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে শেরে বাংলায় ত্রিদেশীয় ক্রিকেট। প্রথম দল হিসেবে ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে জিম্বাবুয়ে। প্রথম খেলা ১৭ জানুয়ারি, তাই শ্রীলঙ্কা আসবে ১৩ তারিখ।
কাল (বুধবার) ৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে টাইগারদের স্কিল ট্রেনিং। এর আগে ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। ৩২ জনের প্রাথমিক দল এখনো নিয়মিত অনুশীলন করে যাচ্ছে বিসিবি একাডেমী মাঠে। এই ৩২ জন থেকে পর্যায়ক্রমে তিন জাতি ওয়ানডে স্কোয়াড, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দল সাজানো হবে।
ক্যাম্পে পর্যাপ্ত ক্রিকেটার, আর খেলা দেশের মাটিতে, তাই দল চূড়ান্ত করার তাড়া ছিল না নির্বাচকদের। কিন্তু একটি বিশেষ কারণে তিনজাতি ক্রিকেট শুরুর এক সপ্তাহ আগেই ওয়ানডে দল চূড়ান্ত করে ফেলতে হচ্ছে।
বুধবার সকালে দল নির্বাচন নিয়ে একান্তে কথা বলেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবাদেন নান্নু। অনেক কথার ভিড়ে নান্নু জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আশা করি ৭ জানুয়ারি ত্রিদেশীয় ক্রিকেটের দল চূড়ান্ত করে ফেলবো।’
আসর শুরুর ৮ দিন আগে দল সাজানো কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে নান্নু আরো বলেন, ‘আরো কারণ আছে। ৯ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল)। তার আগে ১৪ জন বেছে নিতে পারলে বাকিরা বিসিএল খেলতে পারবে।’
১৪ জনের দলে কোন আনকোরা নতুন মুখ থাকার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন নান্নু। তার ব্যাখ্যা, ‘বিপিএলে কয়েকজন ভালো পারফর্ম করেছে, তবে সেটা ২০ ওভারের ফরমেটে, যার সঙ্গে ৫০ ওভারের শুধু দৈর্ঘ্যেরই পার্থক্য নেই, গতি প্রকৃতিরও অমিল।’
এদিকে দল সাজানোর আগে ৬ জানুয়ারি নিজেদের মধ্যে একটি অনুশীলন ম্যাচ আয়োজনের কথা জানালেন নান্নু। প্রধান নির্বাচকের শেষ কথা, ‘আমরা টেস্ট দল নিয়ে কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবো না, সেখানে যারা পরিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত পারফর্মার তারাই থাকবে। তবে টি-টোয়েন্টি ফরমেটে পরিবর্তন আসতে পারে।’
বিপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করা মিডল অর্ডার আরিফুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন, অফস্পিনার মেহেদি হাসান, দুই পেসার আবু হায়দার রনি ও আবু জায়েদ রাহির দলে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ঠ।