t sal

‘টি সেল’ দিয়ে ক্যান্সার চিকিত্সায় নতুন পদ্ধতি
অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের ফলাফল হলো ক্যান্সার। পৃথিবীতে দুইশ প্রকারের বেশি ক্যান্সার রয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্যান্সারের কার্যকর কোনো ওষুধ আবিষ্কার করতে পারেনি বিজ্ঞানীরা। এ কারণে এ রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। ক্যান্সার চিকিত্সার জন্য নিত্য নতুন গবেষণা অব্যাহত রেখেছে চিকিত্সা বিজ্ঞানীরা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ক্যান্সার চিকিত্সায় নতুন পদ্ধতি টি-সেলকে কাজে লাগানোর পথে হাঁটছে বিজ্ঞানীরা। সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতির এই চিকিত্সার মূল কথা হলো, মানুষের দেহের নিজস্ব যে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে সেটিকেই ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোকে ধ্বংসের কাজে লাগানো। ইমিউনো থেরাপি নামের এই চিকিত্সা পদ্ধতির এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে নামের ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক চার্লস সোয়ানটন বলেন, মানুষের দেহের যে নিজস্ব রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা রয়েছে তা প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একেবারেই নিজস্ব। লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদের এই ইমিউন সিস্টেম এমন ক্ষমতা অর্জন করেছে। যাতে তারা স্বাভাবিক দেহকোষকে বাদ দিয়ে শুধু ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসকে চিনতে পারে এবং তাকে আক্রমণ করতে পারে।

ইংল্যান্ডের অ্যাবিংডনে ইমিউনোকোর হচ্ছে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান যারা ইমিউনো থেরাপি ব্যবহার করে ক্যান্সার চিকিত্সার পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য গবেষণা করছে। এজন্য তারা ব্যবহার করছে টি-সেল রিসেপটর বা টিসিআর প্রযুক্তি। ইমিউনোকোরের ইভা-লোট্টা এ্যালেন ব্যাখ্যা করেন কীভাবে তাদের পদ্ধতি কাজ করবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকের দেহে টি সেল বলে একটা জিনিস আছে। একে বলে রক্তের শ্বেত কণিকা। এই সেলগুলোর একটা ক্ষমতা আছে দেহের ভেতরে বাইরের বা অচেনা কোনো কিছু ঢুকলেই তাকে আক্রমণ করে ধ্বংস করার। ক্যান্সার সেলও দেহের স্বাভাবিক কোষ নয়, তাই তাকেও আক্রমণ করে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে টি-সেল সাহায্য করতে পারে। আমরা এমন একটা ওষুধ তৈরি করেছি যার প্রতিটা অণুর দুটো অংশ আছে। এর একটা অংশ ক্যান্সার সেলের সঙ্গে আটকে যায় এবং অন্য প্রান্তটা একটা সংকেতের মাধ্যমে টি-সেলকে তার দিকে আকর্ষণ করতে থাকে। যখন টি-সেলগুলো এসে ওই ওষুধের অণুর সঙ্গে যুক্ত হয় তখন ক্যান্সার সেল-শুদ্ধ তাকে ধ্বংস করে দেয়।-বিবিসি