shakib

‘জীবনে একটি দিন চলে যাওয়া মানে আয়ু হ্রাস পাওয়া, কাজেই প্রতিটি দিনকে অর্থবহ করে তোলা উচিত’- বলেছেন টমাস উইলম্বন। দেখতে দেখতে দেশীয় চলচ্চিত্রে কেটে গেলো একটি বছর। কিন্তু পরিসংখ্যানের বিচারে ২০১৭ সাল কতোটা অর্থবহ ছিল?
এ বছর ৫৫টি ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। যার মধ্যে মাত্র দুটি ছবি ব্যবসা সফল হয়েছে। কিন্তু দেশীয় চলচ্চিত্রে কোনো বক্সঅফিস না থাকায় অনেক ফ্লপ ছবির প্রযোজক-পরিচালকই সারা বছর হিট হিট মিছিল করতে দেখা গেছে। বিষয়টি খুবই হাস্যকর। গোপনে রাতের আঁধারে নাকি এসব ফ্লপ ছবির জন্য কেউ কেউ সাকসেস পার্টিও উদযাপন করেছেন!
কাজের চেয়ে ভিন্ন প্রসঙ্গেই সরব ছিল ঢাকাই চলচ্চিত্র। বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিল্পীদের একে অপরের দিকে কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি, খবরের কাটতি বাড়ালেও সাধারণ মানুষ এসব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। নির্বাচনের রাতে দেশের শীর্ষনায়ক শাকিব খানের উপর হামলাও হয়েছিল!
শাকিবের উপরের হামলার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আইনের আশ্রয়ও নিয়েছিলেন শাকিব খান। এছাড়াও শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের গোপন বিয়ে ফাঁস ও শেষপর্যন্ত ডিভোর্স লেটার পাঠানো নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি।
আন্দোলন হয়েছে যৌথ প্রযোজনার নামে প্রতারণার ছবির বিরুদ্ধে। এ নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন চিত্রনায়ক ফারুক ও আলমগীরের মতো সিনিয়র শিল্পীরা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বাইরে যৌথ প্রযোজনার অনিয়মের ছবির বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য জন্ম নিয়েছে চলচ্চিত্র পরিবার। অন্যদিকে চলচ্চিত্র ফোরাম নামে আরো একটি সংগঠন হয়েছে।
সারা বছর যে পরিমাণ না শুটিং হয়েছে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ছবিতে নায়ক-নায়িকারা চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুক্তির তালিকায় নায়িকারা এগিয়ে নায়কদের চেয়ে! সিনিয়র-জুনিয়র-নবাগত সব শ্রেণীর নায়িকারাই ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার তালিকায় আছেন। সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ করানোর নামে এক শ্রেণীর ধান্দাবাজ নির্মাতা অবৈধ ব্যবসা ফেঁদে বসেছেন। এসব ভন্ডামি আগেও ছিল, এ বছর আরো বেড়েছে। এই নির্মাতারা ছবি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছবিগুলো আলোর মুখ দেখেনি।
বছরজুড়েই ছবির প্রচারণায় ফেসবুক ছিল সরব। কিন্তু তার প্রতিফলন প্রেক্ষাগৃহে দেখা যায়নি। অনেক আলোচিত ছবিই ১০-১২ জন দর্শক নিয়েও প্রদর্শিত হয়েছে। কোনো সিনেমার আবার এক দু’দিন প্রদর্শনের পর ব্যবসা না হওয়াতে হল থেকে নামিয়ে নিয়েছেন প্রেক্ষাগৃহ মালিকরা।
বছরজুড়ে মাস্তান ও পুলিশ, কত স্বপ্ন কত আশা, রীনা ব্রাউন, তুখোড়, যে গল্পে ভালোবাসা নেই, ভালোবাসা এমনই হয়, মায়াবিনী, প্রেমী ও প্রেমী, সত্যিকারের মানুষ, শেষ চুম্বন, মিসড কল, ভুবন মাঝি, মেয়েটি এখন কোথায় যাবে, ভালোবাসা ১৬ আনা, ক্রাইম রোড, শূন্য, সুলতানা বিবিয়ানা, নুরু মিয়া ও তার বিউটি ড্রাইভার, হঠাৎ দেখা, সত্তা, ধ্যাততেরিকি, তুই আমার, আপন মানুষ, পরবাসিনী, তুমি রবে নীরবে, মিলন সেতু, নবাব, রাজনীতি, ড্রেসিং টেবিল, বস টু, গ্রাস, মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা, ভয়ংকর সুন্দর, রাইয়ান, মার ছক্কা, এক পলকের দেখা, রংবাজ, অহংকার, সোনাবন্ধু, টু বি কন্টিনিউড, শেষ কথা, খাঁচা, ১৬ আনা প্রেম, ঢাকা অ্যাটাক, দুলাভাই জিন্দাবাদ, ডুব, গেম রিটার্নস, কপালের লিখন, খাস জমিন, হালদা, ছিটকিনি, চল পালাই, অন্তর জ্বালা, আঁখি ও তার বন্ধুরা, গহীন বালুচর ছবিগুলো মুক্তি পেয়েছে।
এসব ছবির মধ্যে ব্যবসা সফল ছবির তালিকায় উঠে এসেছে দীপংকর দীপন পরিচালিত ‘ঢাকা অ্যাটাক’। ছবির মূল ভাবনা ও কাহিনি লিখেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম ইউনিট) সানী সানোয়ার। অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ, মাহিয়া মাহি, এবিএম সুমন, নওশাবা, শতাব্দী ওয়াদুদ, তাসকিন রহমান।
আর শাকিব খান অভিনীত ‘নবাব’ ছবিটি ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে। জয়দেব মুখার্জী পরিচালিত ইন্দো-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার এই ছবিতে শাকিবের বিপরীতে ছিলেন শুভশ্রী।
নতুন বছরে বিগ বাজেটের বেশ কিছু ছবি মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। পুরনো বছরের হতাশা কাটিয়ে নতুন বছরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াবে। নতুন বছরে কথা কম কাজ বেশি এই নীতিতে পরিচালক-প্রযোজক শিল্পীরা ব্রত হবেন এমনটাই প্রত্যাশা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের।