robot

কোনটি নিরাপদ, আর কোনটি অনিরাপদ? খাবারে ভেজাল নিয়ে এমন দুশ্চিন্তা? তা যদি নিশ্চিত জানিয়ে দেয় রোবট, তাহলে মন্দ কী! এমনই এক রোবট বানিয়ে সাড়া ফেলেছেন কারিগরি শিক্ষার এক শিক্ষার্থী এবং তা বাংলাদেশেই!

হংকং থেকে আসা রোবট ‘সোফিয়া’ হৈ চৈ ফেলে দেয়েছিল, সোফিয়ার বাংলাদেশে আগমনের আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতে দেশের এক তরুণ বানিয়ে ফেলেছেন ‘ডিজিটাল হেলথ সেফটি রোবট’।

স্বল্পমূল্যের এ রোবট কেবল নিরাপদ খাবারের বিষয়টিই নিশ্চিত করবে না; শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ, রক্তে সুগারের পরিমাণ নির্ণয় ছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মানুষকে নানাভাবে সহযোগিতা করবে।

এমনটিই জানাচ্ছিলেন গাজীপুরের মডেল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী মো. নাদিম। রোবটটি যে কথা বলছে, তার ভিডিও সরবরাহ করেছন প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের এ শিক্ষার্থী। নাদিম জানায়, এই রোবটের মাধ্যমে ভেজাল খাদ্য নির্ণয় করা যাবে এবং বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যাবে। ‘রোবটটিকে খাবারের কাছে নিলে সেই খাবারে কী পরিমাণ ভেজাল বা ফরমালিন রয়েছে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানাবে।’ বলবে, ‘এ খাবারে অতিমাত্রায় ফরমালিন রয়েছে। যা আপনার স্বাস্থের জন্য বিপজ্জনক। দয়া করে খাবারটি পরিহার করুন।’

…আর যে খাবারটি ভেজালমুক্ত সেক্ষেত্রে বলবে, ‘এই খাবারটি ভেজালমুক্ত, খাবারের উপযোগী। এটি আপনি গ্রহণ করতে পারেন’। নাদিম জানায়, স্বাস্থ্যগত ছোটখাট অথচ গুরুত্বপূর্ণ সমস্যারও সমাধান দেবে এই রোবট। ‘এর মাধ্যমে হার্টবিট রেট ও ওয়েব ফর্ম দেখা যাবে। ডিজিটাল সেন্সরের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা যাবে। রক্তে সুগারের পরিমাণ নির্ণয় করে ফল জানাবে’।

এছাড়াও রোবটটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মানুষকে নানাভাবে সহযোগিতা করবে বলে দাবি করেছন নাদিম। সহজে বহনযোগ্য এই রোবটটিতে এলসিডি ডিসপ্লে, অ্যাম্পিলিফায়ার, বিভিন্ন ধরনের সেন্সর, স্পিকারসহ নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সারাদেশের পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার আগারগাঁওয়েমহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে স্কিলস কম্পিটিশনে দ্বিতীয় হয়েছে নাদিমের এ প্রযুক্তি। শিক্ষামন্ত্রী নাদিমের হাতে দ্বিতীয় পুরস্কার একটি ল্যাপটপ, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন। গত বছরের এমন আয়োজনে ডিজিটাল সিকিউরিটি সিস্টেম তৈরি করে নিয়ে এসে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় এবং ঢাকা বিভাগে সেরা হন নাদিম।

পুরস্কার অর্জন করে আরো উৎসাহ নিয়ে কাজ করেন নাদিম। চিন্তা শুরু করেন মানুষের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার জন্য কিছু বানাতে। কারণ, বাজারের খাবারে ভেজাল এবং তা গ্রহণ করে ক্যান্সারের মতো মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় মানুষ। আর তিন বছর আগে ক্যান্সার আক্রান্ত নানীকে হারিয়েছিলেন এই তরুণ। গাজীপুরেরর কাপাসিয়ার রাওনাথ এলাকার প্রত্যন্ত এলাকায় বেড়ে ওঠা নাদিমের বাবা-মা অতি সাধারণ মানুষ। দুই ভাই-বোনের মধ্যে বড় নাদিম।

তার ভাষায়, রোবট যেন মানুষকে সাহায্য করে, বিশেষ করে ভেজালমুক্ত খাবার যেন গ্রহণ করতে পারে মানুষ। ক্যান্সারের মতো ব্যধিতে যেন আক্রান্ত না হয়। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই মানুষের স্বাস্থ্যগত দিকটি প্রাধান্য দেই। আর এ কাজে উৎসাহ দিয়েছেন তার শিক্ষকরা।

রোবটটির জন্য ব্যয় হাতের নাগালেই থাকবে জানিয়ে নাদিম জানায়, এটি তৈরিতে ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করলে খরচ আরও কমে যাবে।